‘অবসেশন’ কেন দর্শকদের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে?
হরর সিনেমা মানেই কি ভূত, রাক্ষস বা রক্তাক্ত দানব? সাম্প্রতিক হলিউড ছবি ‘অবসেশন’ সেই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখানে ভয় আসে মানুষের মন থেকে, আর সেই ভয়ই দর্শকদের দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কম বাজেটের এই ছবিটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, আর ভারতেও এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
পরিচালক কারি বার্কার নির্মিত এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারটির বাজেট ১০ লক্ষ ডলারেরও কম। কিন্তু সীমিত বাজেট সত্ত্বেও ছবিটি বক্স অফিসে চমক দেখিয়েছে। দর্শকদের মতে, ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর গল্প, যা প্রেম, আসক্তি এবং নিয়ন্ত্রণের বিপজ্জনক সীমারেখাকে তুলে ধরে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বিয়ার নামের এক শান্ত, অন্তর্মুখী যুবক। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী নিকি-র প্রতি তার গভীর আকর্ষণ জন্মায়। একদিন সে খুঁজে পায় রহস্যময় এক বস্তু— ‘ওয়ান উইশ উইলো’, যা নাকি মানুষের যেকোনও ইচ্ছা পূরণ করতে পারে।
ভালবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার আশায় বিয়ার একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে— নিকি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তাকে ভালবাসে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পরই শুরু হয় ভয়ঙ্কর ঘটনা। নিকির ভালবাসা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আবেগের সীমা পেরিয়ে এক ভয়াবহ আসক্তিতে পরিণত হয়। যে ভালবাসা একসময় বিয়ারের স্বপ্ন ছিল, সেটাই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।
ছবির বিশেষত্ব হল, এখানে কোনও অতিপ্রাকৃত দানব নেই। বরং মানুষের মানসিক আসক্তি কীভাবে ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে, সেটাই তুলে ধরা হয়েছে ভয়ঙ্কর বাস্তবতার সঙ্গে। এই কারণেই অনেক দর্শক ছবিটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অস্বস্তিকর অথচ প্রভাবশালী মনস্তাত্ত্বিক হরর বলে মনে করছেন।
ভারতে ছবিটি মুক্তির আগে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিটিকে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেয়। পাশাপাশি প্রায় ৩৮ সেকেন্ডের কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল একটি হিংসাত্মক দৃশ্য এবং একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দৃশ্য। এই কাটছাঁট ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অনেক দর্শকের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ বাদ পড়ায় গল্পের প্রভাব কিছুটা কমে গিয়েছে।
তবে বিতর্ক ছবির জনপ্রিয়তায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। ভারতে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি প্রায় ৯.৩ কোটি টাকা আয় করে। এমনকি কিছু বড় বাজেটের বলিউড ছবিকেও পিছনে ফেলেছে বক্স অফিসে।
শুধু সাধারণ দর্শক নন, তারকারাও ছবির প্রশংসায় মুগ্ধ। অভিনেত্রী Ananya Panday সমাজমাধ্যমে ছবির পোস্টার শেয়ার করে লিখেছেন, “এই ছবিটা মাথা থেকে বের করতে পারছি না। আমিও যেন ‘অবসেশড’ হয়ে গেছি।”
বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ইতিমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রমাণ করে দিয়েছে, ভয় দেখানোর জন্য সবসময় দানবের প্রয়োজন হয় না— মানুষের মনের অন্ধকারই অনেক সময় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?