আপাতত স্বস্তি পেলেন পরমব্রত!
অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো এক মামলায় আপাতত স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে তদন্ত চলবে এবং সেই তদন্তে অভিনেতাকে সহযোগিতা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন। অভিযোগ, সেই সময় সমাজমাধ্যমে পরমব্রত একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ১০৯ ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার আদালতে পরমব্রতের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, এত বছর পর হঠাৎ করে এই মামলা নতুন করে সামনে আনার কোনও যৌক্তিকতা নেই। তাঁর বক্তব্য, ওই মন্তব্যে সরাসরি কারও ক্ষতি হয়নি এবং অভিযোগের ভিত্তিও দুর্বল। তাই এই এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানানো হয় আদালতে।
এই একই মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়েরও। গত ২৩ মে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী অশান্তির সময়ে সমাজমাধ্যমে করা কিছু মন্তব্যের মাধ্যমে হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারী আইনজীবীর বক্তব্য, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হওয়ায় পরমব্রত ও স্বস্তিকার মন্তব্য সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পিছনে এই ধরনের পোস্ট ভূমিকা নিয়েছিল।
যদিও অভিনেতাদের তরফে এই অভিযোগ মানা হয়নি। তাঁদের আইনজীবীদের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। উপরন্তু, পাঁচ বছর পুরনো একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই মুহূর্তে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কিছুটা স্বস্তিতে পরমব্রত। তবে তদন্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে আগামী দিনে এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?