দ্বাদশের পর জাহাজে চাকরির পথে কী ভাবে এগোবেন?
উচ্চ মাধ্যমিকের পর শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারিই নয়, এখন অনেক পড়ুয়া বেছে নিচ্ছেন অন্য রকম পেশার পথ। তেমনই একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হল নটিক্যাল সায়েন্স। সমুদ্রপথে জাহাজ চালানো, নেভিগেশন, জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি আজকের দিনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
নটিক্যাল সায়েন্স মূলত শেখায়, কী ভাবে বিশাল জাহাজ নিরাপদে সমুদ্রপথে চালাতে হয়, কী ভাবে কন্টেনার লোডিং করতে হয় এবং প্রতিকূল আবহাওয়াতেও জাহাজকে সুরক্ষিত রাখতে হয়। তাই এই বিষয়ে পড়তে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ও শারীরিক সক্ষমতা— দুটোই জরুরি।
কারা পড়তে পারবেন?
নটিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি হতে হলে উচ্চ মাধ্যমিকে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং গণিত থাকা বাধ্যতামূলক। সাধারণত ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি শারীরিক ফিটনেসও খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পেশায় দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাজ করতে হয়।
কোন কোন কোর্স রয়েছে?
দ্বাদশের পর মূলত দু’ধরনের কোর্স করা যায়—
- বিএসসি ইন নটিক্যাল সায়েন্স
এটি তিন বছরের স্নাতক কোর্স। এখানে নেভিগেশন, শিপ অপারেশন, সিম্যানশিপ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত শেখানো হয়। - ডিপ্লোমা ইন নটিক্যাল সায়েন্স (DNS)
এটি এক বছরের প্রি-সি রেসিডেনশিয়াল কোর্স। পড়াশোনার পাশাপাশি জাহাজে প্রশিক্ষণের সুযোগও থাকে। অনেক সময় শিপিং সংস্থা স্পনসরশিপ দেয়।
কোথায় পড়াশোনা করা যায়?
ভারতে এই বিষয়ে পড়ার অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান হল Indian Maritime University। এছাড়াও ডিরেক্টর জেনারেল অফ শিপিং অনুমোদিত একাধিক বেসরকারি মেরিটাইম ইনস্টিটিউটেও এই কোর্স করানো হয়।
ভর্তির জন্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ ও মেডিক্যাল টেস্টও নেওয়া হয়।
পড়াশোনার পর কী করতে হয়?
কোর্স শেষ করলেই সরাসরি জাহাজে কাজ শুরু করা যায় না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
- জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা
- সমুদ্রে নিরাপত্তা
- অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ
- প্রাথমিক চিকিৎসা
এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার পর ‘স্ট্যান্ডার্ডস অফ ট্রেনিং, সার্টিফিকেশন অ্যান্ড ওয়াচকিপিং’ (STCW) সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, যা জাহাজে কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরির সুযোগ কেমন?
প্রথমে সাধারণত ডেক ক্যাডেট হিসাবে কাজ শুরু করতে হয়। অভিজ্ঞতা বাড়লে ধাপে ধাপে—
- থার্ড অফিসার
- সেকেন্ড অফিসার
- চিফ অফিসার
- ক্যাপ্টেন
পদে উন্নতি করা যায়।
বেতনও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। শুরুতেই বছরে প্রায় ৩ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। পরে অভিজ্ঞতা বাড়লে বছরে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি বেতন পাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজে।
সমুদ্রপথে ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজ এবং উচ্চ বেতনের সুযোগ— সব মিলিয়ে নটিক্যাল সায়েন্স আজকের প্রজন্মের কাছে একটি সম্ভাবনাময় কেরিয়ার বিকল্প হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?