দিদিমার রান্নাঘরের হারিয়ে যাওয়া ‘কুলার’ — গরমে প্রাণ জুড়োত যে সব ঘরোয়া শরবতে

দিদিমার রান্নাঘরের হারিয়ে যাওয়া ‘কুলার’! এক সময় গরম মানেই ছিল কুঁজোর ঠান্ডা জল, তালপাতার পাখা আর রান্নাঘরে তৈরি ঘরোয়া শরবত। তখন বাজারচলতি সফট ড্রিঙ্ক বা প্যাকেটবন্দি কুলারের এত রমরমা ছিল…

May 28, 2026
1 min read

দিদিমার রান্নাঘরের হারিয়ে যাওয়া ‘কুলার’!

এক সময় গরম মানেই ছিল কুঁজোর ঠান্ডা জল, তালপাতার পাখা আর রান্নাঘরে তৈরি ঘরোয়া শরবত। তখন বাজারচলতি সফট ড্রিঙ্ক বা প্যাকেটবন্দি কুলারের এত রমরমা ছিল না। সামান্য কয়েকটি উপকরণেই দিদিমা-ঠাকুমারা বানিয়ে ফেলতেন এমন সব শীতল পানীয়, যা শুধু তেষ্টা মেটাত না, শরীর-মন দুটোই ঠান্ডা করে দিত। আজকের দিনে সেই অনেক শরবতই প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু গরমের দুপুরে সেই স্বাদ এখনও নস্টালজিয়া হয়ে ফিরে আসে।

বাতাসা-কর্পূরের শরবত

গুড়ের বাতাসা আর এক চিমটে খাওয়ার কর্পূর— এই দু’টিই ছিল এই শরবতের প্রাণ। ঠান্ডা জলে বাতাসা গুলে তার সঙ্গে সামান্য গোলাপজল বা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দেওয়া হত। শেষে অল্প কর্পূর। গরমে ক্লান্ত শরীরে এই শরবত এনে দিত আলাদা প্রশান্তি।

মঠের শরবত

দোল বা রথের মেলা থেকে কেনা রঙিন মঠ দিয়েই তৈরি হত এই পানীয়। জলে গুলে নিলেই তৈরি হত গোলাপি বা হলুদ রঙের শরবত। তার সঙ্গে একটু বিটনুন আর গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই স্বাদ আরও বেড়ে যেত। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মজাদার।

তেঁতুল-গুড়ের শরবত

টক-মিষ্টি স্বাদের এই শরবত ছিল গরমের অন্যতম ভরসা। তেঁতুলের ক্বাথের সঙ্গে আখের গুড়, বিটনুন আর ভাজা জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে বানানো হত এটি। শুধু স্বাদ নয়, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করত এই পানীয়।

মৌরি-মিছরির জল

পেট ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে সহজ ঘরোয়া উপায়। রাতে মৌরি আর তালমিছরি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল ছেঁকে খাওয়ানো হত। অ্যাসিডিটি কমানো থেকে হজমশক্তি বাড়ানো— সবেতেই উপকারী এই পানীয়।

বেলের পানা

গরমের দিনে বেলের পানা ছিল প্রায় ওষুধের মতো। পাকা বেলের শাঁস, গুড় আর ঠান্ডা জল— এই তিনেই তৈরি হত এই শরবত। চাইলে সামান্য বিটনুনও দেওয়া যেত। হিটস্ট্রোক ঠেকাতে এবং পেট ভাল রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার।

গন্ধরাজ ঘোল

আজও জনপ্রিয় এই পানীয়। টক দই, বিটনুন, সামান্য চিনি আর গন্ধরাজ লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি হয় এই ঘোল। উপরে গন্ধরাজ লেবুর পাতা দিলে সুগন্ধ আরও বেড়ে যায়। গরমে ক্লান্তি দূর করতে এর জুড়ি নেই।

তোকমার শরবত

এখন যাকে ‘বেসিল সিডস’ বলা হয়, সেই তোকমা বহু দিন ধরেই বাঙালির ঘরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মিছরির জলে তোকমা ভিজিয়ে রেখে তার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া হত। শরীর ঠান্ডা রাখা ও হজমে সাহায্য করার জন্য এই শরবত খুবই উপকারী।

সাবুদানার ঘোল

ভেজানো সাবুদানার সঙ্গে টক দই, বিটনুন, গোলমরিচ আর তালমিছরি মিশিয়ে তৈরি হত এই অভিনব পানীয়। সহজপাচ্য হওয়ায় গরমে দুর্বল শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাত।

ডাবের শরবত

ডাবের জল, নরম শাঁস, পুদিনা আর গন্ধরাজ লেবুর রস— এই মিশ্রণ গরমে একেবারে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিঙ্কের কাজ করত। শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

এই সব শরবতের বিশেষত্ব ছিল, এগুলো শুধু স্বাদের জন্য নয়, শরীরের প্রয়োজন মাথায় রেখেই তৈরি হত। আধুনিক পানীয়ের ভিড়ে হারিয়ে গেলেও, এই ঘরোয়া কুলারগুলির আবেদন আজও একটুও কমেনি।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *