পালাবদলের পর গ্রেফতারির ঝড়! প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে ‘মৃত’ কাউন্সিলর!
রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। মাত্র ২৪ দিনের মধ্যেই একের পর এক গ্রেফতারির ঘটনায় কার্যত তোলপাড় বাংলা রাজনীতি। প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিক— দুর্নীতি, তোলাবাজি, আর্থিক তছরুপ এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় বহু পরিচিত মুখ এখন তদন্তকারীদের জালে।
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি চাকরির সুপারিশের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইডি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁকে হেফাজতে নেয়। ভোটের আগে একাধিক বার তলব এড়ালেও শেষরক্ষা হয়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলও এখন আইনি জটিলতায়। বিরোধীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। পরে পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলও আগেই গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযোগ, এলাকায় অশান্তি ছড়ানো এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি।
কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের গ্রেফতারিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সোনা পাপ্পু’ মামলায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তাঁকে বারবার তলব করেছিল ইডি। দীর্ঘ সময় হাজিরা এড়ানোর পর অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে।
বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ঘটনাও কম চাঞ্চল্যকর নয়। প্রথমে একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাঁর পাটখেতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ টাকা। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আপাতত পুলিশি হেফাজতেই রয়েছেন তিনি।
বেহালার কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে উঠেছে তোলাবাজির অভিযোগ। এক ব্যবসায়ীর দাবি, টাকা না দিলে দোকান ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একই ভাবে বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলরকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলা আদায়, ভয় দেখানো এবং সিন্ডিকেট চালানোর মতো বিষয়।
কোচবিহারের যুব তৃণমূল নেতা স্বপন বর্মণও পুলিশের জালে। শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সন্দেশখালির কাদের মোল্লার গ্রেফতারিও বড় ঘটনা। বিজেপি কর্মী খুনের মামলায় সিবিআই তাঁকে আটক করেছে। শাহজাহান শেখের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন কাদের।
সবশেষে আলোচনায় উঠে এসেছে ডানকুনির কাউন্সিলর সূর্য দে-র নাম। কিছু দিন আগেই ভোটার তালিকায় ভুল করে তাঁকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে শ্মশানে গিয়ে প্রতিবাদও করেছিলেন তিনি। এ বার মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন সেই কাউন্সিলরই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পালাবদলের পর পুরনো অভিযোগগুলিই এখন নতুন করে সামনে আসছে। আর সেই কারণেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে গ্রেফতারির এই ঝড়।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা