৫০ বছরের রহস্যভেদ! বিরল রক্তের গ্রুপের নেপথ্যে কোন জিন, অবশেষে জানালেন বিজ্ঞানীরা

৫০ বছরের রহস্যভেদ! বিরল রক্তের গ্রুপের নেপথ্যে কোন জিন! প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীদের মাথাব্যথার কারণ ছিল এক রহস্যময় রক্তের অ্যান্টিজেন। বহু গবেষণা, পরীক্ষা আর বিশ্লেষণের পরে অবশেষে সেই ধাঁধার সমাধান…

May 19, 2026
1 min read

৫০ বছরের রহস্যভেদ! বিরল রক্তের গ্রুপের নেপথ্যে কোন জিন!

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীদের মাথাব্যথার কারণ ছিল এক রহস্যময় রক্তের অ্যান্টিজেন। বহু গবেষণা, পরীক্ষা আর বিশ্লেষণের পরে অবশেষে সেই ধাঁধার সমাধান মিলল। ব্রিটেন এবং ইজ়রায়েলের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এমন একটি জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা অত্যন্ত বিরল এক রক্তের গ্রুপের জন্য দায়ী। এই নতুন ব্লাড গ্রুপ সিস্টেমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমএএল’।

আমরা সাধারণত রক্তের গ্রুপ বলতে এ, বি, এবি বা ও এবং তার সঙ্গে পজ়িটিভ বা নেগেটিভ আরএইচ ফ্যাক্টর বুঝি। কিন্তু বাস্তবে মানুষের রক্তের জগৎ অনেক বেশি জটিল। বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত ৪৭টি ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম এবং ৩৬০টিরও বেশি অ্যান্টিজেনের সন্ধান পেয়েছেন। এই অ্যান্টিজেনগুলি লোহিত রক্তকণিকার গায়ে থাকে এবং রক্তদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সামান্য অমিল থাকলেও গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

নতুন গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘এএনডব্লিউজে’ নামে এক বিরল অ্যান্টিজেন। প্রথম বার ১৯৭২ সালে দুই রোগীর শরীরে এই অ্যান্টিবডির সন্ধান মেলে। তাঁদের নামের আদ্যক্ষর থেকেই তৈরি হয় ‘এএনডব্লিউজে’ নামটি। কিন্তু এত বছরেও বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেননি, ঠিক কোন জিন এই বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী।

অবশেষে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘এক্সোম সিকোয়েন্সিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে সেই রহস্য উন্মোচন করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, যাঁদের শরীরে এএনডব্লিউজে অ্যান্টিজেন নেই, তাঁদের শরীরে একটি বিশেষ জিনের পরিবর্তন রয়েছে। এই জিনটির নাম ‘এমএএল’। এটি এমন একটি প্রোটিন তৈরি করে, যা কোষের মেমব্রেনকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের রক্তে এএনডব্লিউজে পজ়িটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাঁদের লোহিত রক্তকণিকায় সম্পূর্ণ এমএএল প্রোটিন উপস্থিত থাকে। কিন্তু যাঁরা এএনডব্লিউজে নেগেটিভ, তাঁদের শরীরে সেই প্রোটিন অনুপস্থিত। পরীক্ষাগারে বিজ্ঞানীরা যখন লোহিত রক্তকণিকায় এমএএল জিন প্রবেশ করান, তখন কোষগুলি আবার এএনডব্লিউজে অ্যান্টিজেন তৈরি করতে শুরু করে। এর থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই বিরল রক্তের গ্রুপের নেপথ্যে এমএএল প্রোটিনই মূল কারণ।

এই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এত দিন এই বিরল রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করাই ছিল অত্যন্ত কঠিন। ভুল রক্ত দেওয়া হলে রোগীর শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। এখন জিনগত পরীক্ষা করে সহজেই বোঝা যাবে, কার শরীরে এই বিরল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, পৃথিবীর ৯৯.৯ শতাংশ মানুষের শরীরে এএনডব্লিউজে অ্যান্টিজেন থাকে। এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ জন জন্মসূত্রে এএনডব্লিউজে নেগেটিভ ব্যক্তির খোঁজ মিলেছে, যাঁরা আরব-ইজ়রায়েলি পরিবারের সদস্য। তবে ভবিষ্যতে আরও এমন মানুষের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরল রক্তের গ্রুপ শনাক্ত করা সহজ হলে রক্তদান, অস্ত্রোপচার এবং জটিল চিকিৎসা আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *