হরমুজ়ের বিকল্প খুঁজছে ভারত, সমুদ্রের নীচ দিয়ে আসতে পারে তেল-গ্যাস

হরমুজ়ের বিকল্প খুঁজছে ভারত! পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং দীর্ঘ দিন ধরে হরমুজ় প্রণালী অচল হয়ে পড়ার জেরে বড় সঙ্কটে পড়েছে ভারতের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থা। সেই কারণেই এবার বিকল্প পথ খুঁজতে…

May 16, 2026
1 min read

হরমুজ়ের বিকল্প খুঁজছে ভারত!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং দীর্ঘ দিন ধরে হরমুজ় প্রণালী অচল হয়ে পড়ার জেরে বড় সঙ্কটে পড়েছে ভারতের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থা। সেই কারণেই এবার বিকল্প পথ খুঁজতে নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। সমুদ্রের নীচ দিয়ে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারতে তেল ও গ্যাস আনার বহু পুরনো পরিকল্পনাকে ফের ঝালিয়ে দেখছে কেন্দ্র।

ভারতের জ্বালানির চাহিদার প্রায় ৮৯ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তার বড় অংশ আসে হরমুজ় প্রণালী হয়ে। কিন্তু ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতের আবহে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বহু দেশ, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।

কী ভাবছে ভারত?

Ministry of Petroleum and Natural Gas সূত্রে খবর, ওমান থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের তলায় প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন বসানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই পাইপলাইনটি ওমানের রাস আল জিফান অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে আরব সাগরের নীচ দিয়ে গুজরাতের পোরবন্দর উপকূলে পৌঁছতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৪৫০ মিটার গভীরে বসানো হতে পারে এই পাইপলাইন, যা বিশ্বের গভীরতম পাইপলাইনগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।

কেন এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমানে ভারতের বড় সমস্যা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি। এত দিন কাতার ছিল প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু হরমুজ়ে অস্থিরতার জেরে সেই সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস এলে—

  • জাহাজের উপর নির্ভরতা কমবে
  • পরিবহণ খরচ কমতে পারে
  • জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে
  • ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত বছরে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে।

কারা কাজ করছে?

Engineers India Limited এবং Indian Oil Corporation-সহ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে সম্ভাব্যতা রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লিভিত্তিক কনসোর্টিয়াম South Asia Gas Enterprise ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক সমীক্ষা চালিয়েছে। প্রায় ৩,০০০ মিটার গভীরে পরীক্ষামূলক পাইপলাইন বসিয়েও সমুদ্রতলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে।

কত সময় লাগতে পারে?

চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে পুরো প্রকল্প তৈরি হতে প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে বলে অনুমান।

এই করিডর তৈরি হলে শুধু ওমান নয়, ভবিষ্যতে Qatar, Saudi Arabia, United Arab Emirates এমনকি তুর্কমেনিস্তানের গ্যাসভান্ডারের সঙ্গেও সরাসরি সংযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে ভারতের।

কেন এখনই এত তৎপরতা?

হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ায় ভারতকে বিকল্প রুটে বেশি খরচে জ্বালানি আনতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারের উপরে ঘোরাফেরা করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ার ও অর্থনীতির উপর।

এই পরিস্থিতি থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভারত এখন বহু-মুখী জ্বালানি ও বাণিজ্য কৌশলের দিকে এগোতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *