রজনীকান্তের অহংকার ভেঙে দেওয়া সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!
৭৪ বছর বয়সেও ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় সুপারস্টার রজনীকান্ত। দক্ষিণে তাঁকে ঘিরে যে ভক্তপূজা, তা প্রায় কিংবদন্তির মতোই। তাঁর সিনেমা মুক্তি মানেই প্রেক্ষাগৃহে উন্মাদনা, প্রথম সপ্তাহেই শত কোটি টাকার ব্যবসা—সব মিলিয়ে ‘থালাইভা’ আজও অপরিবর্তিত জনপ্রিয়তার প্রতীক। কিন্তু এমন এক সময়ও এসেছে, যখন এই তারকা নিজেই অনুভব করেছেন—খ্যাতি, পরিচয় বা আলো সবকিছুই এক মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকরের ‘আর্ট অফ লিভিং’ আশ্রমের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নিজের জীবনের এমনই এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন রজনীকান্ত। আশ্রমের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের একটি ঘটনা, যা তাঁর অহংকার ভেঙে দিয়েছিল বলে জানান তিনি।
রজনীকান্ত বলেন, একবার তিনি যখন ওই আশ্রমে যান, তখন স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা থাকবে। বিশেষ করে সেখানে তামিলনাড়ুর অনেক মানুষও ছিলেন। কিন্তু বাস্তব ছিল একেবারেই উল্টো।
তিনি জানান, “আমি ভেবেছিলাম অন্য জায়গার মতো এখানেও মানুষ আমাকে চিনবে, আমার দিকে তাকাবে। কিন্তু আশ্চর্যভাবে, একটিও মানুষ আমার দিকে ফিরে তাকায়নি।”
এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এক নতুন উপলব্ধিতে পৌঁছে দেয় বলে জানান রজনীকান্ত। তাঁর কথায়, সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন খ্যাতি বা তারকাখ্যাতির বাইরেও জীবনে এমন কিছু আছে, যা অনেক বড়—আধ্যাত্মিকতা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি।
তিনি আরও বলেন, ওই আশ্রমে দুই দিনের জন্য গেলেও সেখানকার পরিবেশ তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে তিনি প্রায় দশ দিন সেখানে থেকে যান।
এই অভিজ্ঞতাকেই নিজের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করেন রজনীকান্ত। তাঁর মতে, সেই দিন তিনি বুঝেছিলেন “সত্যিকারের স্টারডম” আসলে বাহ্যিক জনপ্রিয়তায় নয়, বরং নিজের ভেতরের স্থিরতা ও আত্মজিজ্ঞাসায়।
আজও ভক্তদের কাছে তিনি যতটা জনপ্রিয়, ততটাই বিনয়ী হিসেবে পরিচিত। আর এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল সেই দিকটাই—যেখানে খ্যাতির চূড়ায় থেকেও তিনি শিখেছেন মাটিতে নামতে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা