রাজনীতি থেকে দূরে থাকা ‘ফিটনেস অনুরাগী’!
রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পরিবারের আর এক পরিচিত নাম প্রতীক যাদবের অকাল মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর শোকের পাশাপাশি একাধিক প্রশ্ন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু অনেককেই অবাক করেছে, কারণ রাজনীতি নয়—তিনি বরাবরই বেছে নিয়েছিলেন একেবারে আলাদা জীবনধারা।
প্রয়াত সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিংহ যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। পরিবার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হলেও তিনি নিজের পথ বেছে নিয়েছিলেন ব্যবসা, ফিটনেস এবং সামাজিক কাজের দিকে। লখনউয়ের ‘দ্য ফিটনেস প্ল্যানেট’ নামে একটি জিম চালাতেন তিনি, পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
জানা গিয়েছে, প্রতীক বহু বছর ধরে ফিটনেস ও শরীরচর্চার প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিলেন। একসময় শরীরচর্চার প্রতি অনীহা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি পুরোপুরি বদলে যান এবং নিয়মিত জিম ও কঠোর রুটিন মেনে চলতেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর জিম ও ওয়ার্কআউটের ছবি প্রায়ই দেখা যেত। এমনকি আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং প্ল্যাটফর্মেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল বলে জানা যায়।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, প্রতীক ছিলেন মুলায়ম সিংহ যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তের পুত্র। সেই অর্থে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের সৎভাই। তবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি বরং ব্যবসা এবং সামাজিক উদ্যোগেই বেশি সময় দিতেন। তিনি একটি পশু কল্যাণ সংস্থাও চালাতেন, যেখানে গৃহহীন পশুদের চিকিৎসা ও সুরক্ষার কাজ করা হতো।
প্রতীকের শিক্ষাজীবনও বিদেশে সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন বলে জানা গিয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অপর্ণা বিস্ত (বর্তমানে অপর্ণা যাদব)-কে বিয়ে করেছিলেন, যিনি পরবর্তীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি পোস্ট ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে, যদিও সেটি পরে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং হ্যাকিংয়ের অভিযোগও ওঠে।
প্রতীকের মৃত্যুর কারণ নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার চিকিৎসাও চলছিল। কিছু সপ্তাহ আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, পরে অবস্থার উন্নতি হলে বাড়িতেও ফিরেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বুধবার ভোরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পরিবার ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতীক যাদবের জীবন ঘিরে একদিকে যেমন রয়েছে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ছায়া, তেমনই অন্যদিকে ছিল সম্পূর্ণ আলাদা এক পরিচয়—ফিটনেস, ব্যবসা এবং সমাজসেবার জগৎ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সেই জীবনকেই যেন এক অসমাপ্ত গল্পে পরিণত করল, যার উত্তর এখনও খুঁজছে অনেকেই।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা