পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন!
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে নিজেদের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। নিরাপত্তার অভাবের কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— পাকিস্তান কি ধীরে ধীরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে?
সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, পেশোয়ারে কর্মরত কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই ওই কনস্যুলেট বন্ধ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সেখানকার যাবতীয় কাজ ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে। যদিও ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মোটেই আচমকা নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান লাগোয়া খাইবার পাখতুনখোয়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গিগোষ্ঠী Tehrik-i-Taliban Pakistan বা টিটিপি। পাকিস্তান সরকার বহু বার তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও হামলা থামেনি। পাক সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনীর উপর নিয়মিত আক্রমণের ঘটনাও ঘটছে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার টিটিপিকে মদত দিচ্ছে। যদিও কাবুল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কও ক্রমশ উত্তপ্ত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ, ড্রোন হামলা এবং আত্মঘাতী আক্রমণের ঘটনাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেশোয়ারে বিদেশি কূটনৈতিক দফতর চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞেরা।
অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাম্প্রতিক অস্থিরতাও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মত একাংশের। বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে ওঠার পর পাকিস্তানে মার্কিন স্বার্থের উপর হামলার আশঙ্কাও বাড়ছিল। অতীতে ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়েছিল বিভিন্ন মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্র। ফলে পেশোয়ারের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কনস্যুলেট খোলা রাখা নিরাপদ মনে করেনি ওয়াশিংটন।
এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক নিয়ে এত দিন আলোচনা চললেও, বাস্তবে পাকিস্তান কি আদৌ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে— সেই প্রশ্ন উঠছে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলেও।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক জটিল সমীকরণের মধ্যে আটকে পড়েছে। এক দিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্য দিকে আফগানিস্তান ও ইরানের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে টানাপড়েন সামলানো— দু’দিকেই ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে চাপে পড়েছে ইসলামাবাদ।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা