পালাবদলের হাওয়ায় নবান্নে ইস্তফার ঢেউ!
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই প্রাক্তন আমলা—Alapan Bandyopadhyay এবং H K Dwivedi—তাঁদের ‘মুখ্য উপদেষ্টা’ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে এই খবর সামনে এসেছে।
এই দুই আধিকারিকই একসময় রাজ্যের মুখ্যসচিব ছিলেন এবং অবসরের পর তাঁদের বিশেষ দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাঁদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হত। তাই তাঁদের পদত্যাগ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শুধু এখানেই শেষ নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকেও ইস্তফার খবর মিলছে। সূত্রের দাবি, প্রাক্তন আমলা Manoj Pant মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা হয়নি।
এর আগেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল Kishore Dutta পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক পদত্যাগ নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, অবসরের পর এই ধরনের উপদেষ্টা পদ সাধারণত সরকারের আস্থাভাজন আমলাদেরই দেওয়া হয়। ফলে সরকার বদলালে বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টালে এই পদে থাকা ব্যক্তিদের সরে দাঁড়ানো অস্বাভাবিক নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই পদগুলির মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
উল্লেখযোগ্য, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আগে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনও তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে কেন্দ্র তাঁকে বদলির নির্দেশ দিলেও রাজ্য তা মানতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত অবসরের পর তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়। অন্যদিকে, হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর মেয়াদ বৃদ্ধির সময়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদত্যাগগুলিকে অনেকেই ‘স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল’ হিসেবে দেখছেন। নতুন সরকার গঠনের আগে বা পরে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এই ধরনের পরিবর্তন প্রায়শই ঘটে থাকে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোতেও যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, এই ধারাবাহিক ইস্তফা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক দলে কী ধরনের নতুন মুখ বা পরিবর্তন আসে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা