ক্ষুধার বিশ্বসূচকে পাকিস্তান শীর্ষ দশে!
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা খাদ্য সঙ্কটের মধ্যে এবার উদ্বেগজনক ছবি উঠে এল দক্ষিণ এশিয়ায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ সমর্থিত সংস্থার ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৬’-এ দেখা যাচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে Pakistan। আর এই তালিকায় Bangladesh-এর অবস্থান সপ্তম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ Nigeria-তে। এরপর রয়েছে Democratic Republic of the Congo, Sudan, Yemen এবং Afghanistan। এই তালিকার মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছে Myanmar, তারপরই বাংলাদেশ (৭ম) এবং পাকিস্তান (৮ম)। শেষ দু’টি দেশ South Sudan ও Syria।
পাকিস্তানের অবস্থা কতটা খারাপ?
রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানে প্রায় ২২% মানুষ নিয়মিত দু’বেলা খাবার পান না। সংখ্যায় তা প্রায় ১.১ কোটি। তাঁদের মধ্যে বহু মানুষ ‘সঙ্কটজনক’ বা ‘জরুরি’ অবস্থায় রয়েছেন—যা দুর্ভিক্ষের ঠিক আগের স্তর হিসেবে ধরা হয়।
খাদ্য নিরাপত্তা মাপার আন্তর্জাতিক সূচক আইপিসি (IPC)-তেও পাকিস্তান এখন চতুর্থ স্তরে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বালোচিস্তান, সিন্ধ ও খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে পরিস্থিতি আরও খারাপ।
বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশ তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে—৭ নম্বরে। তবে সংখ্যার হিসেবে সেখানে খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষের সংখ্যা পাকিস্তানের থেকেও বেশি—প্রায় ১.৬ কোটি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১৭ জন পর্যাপ্ত খাবার পান না।
কেন বাড়ছে এই সঙ্কট?
রিপোর্টে একাধিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে—
- জলবায়ু পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক আবহাওয়া
- বন্যায় ফসলের ক্ষতি
- অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি
- সংঘাত ও রাজনৈতিক অশান্তি
- জ্বালানি ও আমদানি খরচ বৃদ্ধি
বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নষ্ট হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কী ছবি?
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৬.৬ কোটি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে ভুগছেন। শীর্ষ ১০টি দেশেই এই বিপুল সংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস করেন।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তার চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে—অর্থনীতি, পরিবেশ ও রাজনীতির জটিল মিশ্রণে এই সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে ভবিষ্যতে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?