অর্থসংকটে দিশেহারা পাকিস্তান হকি, বেতন-বঞ্চনা ও কোচ বিতর্কে বাড়ছে ক্ষোভ

অর্থসংকটে দিশেহারা পাকিস্তান হকি! পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক কথায়—দুর্দশার চূড়ান্ত ছবি। এক সময় আন্তর্জাতিক হকির দাপুটে শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দল এখন অর্থাভাব, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং…

April 29, 2026
0 min read

অর্থসংকটে দিশেহারা পাকিস্তান হকি!

পাকিস্তানের জাতীয় হকি দলের বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক কথায়—দুর্দশার চূড়ান্ত ছবি। এক সময় আন্তর্জাতিক হকির দাপুটে শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দল এখন অর্থাভাব, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং পরিকল্পনার অভাবে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই সংকটকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

খেলোয়াড়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে তাঁরা নিয়মিত পারিশ্রমিক বা দৈনিক ভাতা পাচ্ছেন না। ম্যাচ ফি তো দূরের কথা, কেন্দ্রীয় চুক্তির টাকাও বাকি পড়ে রয়েছে। ফলে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অধিকাংশ খেলোয়াড়। কয়েক মাস আগেই অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে হোটেলে বাসন মাজা থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কারের মতো কাজ করতে হয়েছিল তাঁদের—যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এই আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেই সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি। জুন মাসে ভারত এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রো লিগের ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু প্রস্তুতির অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। এখনও পর্যন্ত আটটি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি দল। পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়েরা চেয়েছিলেন অভিজ্ঞ বিদেশি কোচ নিয়োগ করা হোক, বিশেষ করে প্রাক্তন আন্তর্জাতিক কোচ রোল্যান্ট অল্টম্যানসের নাম সামনে আসে। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই দাবি মানা সম্ভব হয়নি। বরং ফেডারেশন প্রাক্তন অলিম্পিয়ান মনজ়ুরুল হাসানকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাংশের অভিযোগ, মনজ়ুরুল অতীতে দক্ষ খেলোয়াড় হলেও বর্তমানে তাঁর বয়স অনেক বেশি, শারীরিক সমস্যাও রয়েছে, এমনকি আধুনিক হকির কৌশল বা বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তাঁর ধারণাও সীমিত। ফলে এই নিয়োগে দলের পারফরম্যান্সে কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু কোচিং নয়, অনুশীলনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘাটতি। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা যাচ্ছে না, আধুনিক পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৬ সালের পর থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ম্যাচ জিততে পারেনি পাকিস্তান। আগামী জুনে আবার সেই মুখোমুখি লড়াই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে, তা বলাই বাহুল্য।

এক সময় এই দলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সহায়তার আশ্বাস মেলেনি। ফলে হতাশা আরও বাড়ছে দলের ভিতরে।

বর্তমানে পাকিস্তানের বেশ কিছু খেলোয়াড় ইউরোপ এবং হংকংয়ের বিভিন্ন লিগে খেলছেন। মে মাসে তাঁদের দেশে ফেরার কথা। কিন্তু জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তান হকির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সঠিক নেতৃত্ব। এই দুইয়ের অভাব মেটানো না গেলে, এক সময়ের গৌরবময় ইতিহাস শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *