সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন ভেঙে ইউএস ওপেন রিবাকিনার!
বিশ্বের এক নম্বর বনাম দুই নম্বর—মহিলাদের ইউএস ওপেন ফাইনালে এমন লড়াই থেকেই হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। বাস্তবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কখনও এলিনা রিবাকিনা এগিয়েছেন, কখনও অ্যারিনা সাবালেঙ্কা ম্যাচে ফিরে এসেছেন। শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে বাজিমাত করলেন কাজাখস্তানের রিবাকিনা। সাবালেঙ্কার ইউএস ওপেন জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ ব্যবধানে খেতাব জিতে নিলেন তিনি।
এই জয়ের সঙ্গে রিবাকিনার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। একই মরসুমে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামও জিতলেন তিনি। শুধু ট্রফিই নয়, এই জয়ের ফলে বিশ্বের এক নম্বর স্থানও দখল করলেন রিবাকিনা। অন্য দিকে টানা ৯৯ সপ্তাহ শীর্ষে থাকার পর সেই জায়গা হারালেন সাবালেঙ্কা।
ইউএস ওপেনে টানা তিন বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির রয়েছে ক্রিস এভার্ট এবং সেরিনা উইলিয়ামসের। তাঁদের তালিকায় তৃতীয় নাম হিসাবে নিজেকে যুক্ত করার সুযোগ ছিল সাবালেঙ্কার সামনে। কিন্তু রিবাকিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সেই সুযোগ হাতছাড়া হল।
চোট নিয়েও লড়াই, শেষ পর্যন্ত রিবাকিনার স্বপ্নপূরণ
২০২২ সালে উইম্বলডন জেতার পর দীর্ঘ সময় গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেননি রিবাকিনা। পরের ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে মাত্র একটিতে ফাইনালে উঠেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর আরও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
কিন্তু চলতি মরসুমে সেই সংশয়ের জবাব দিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দিয়ে বছর শুরুতেই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন রিবাকিনা। ফরাসি ওপেন ও উইম্বলডনে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ইউএস ওপেনে ফের সেরার মঞ্চে ফিরলেন।
বিশেষ করে চোট কাটিয়ে তাঁর এই সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য। সিনসিনাটি ওপেনে চোট পাওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ কোর্টে নামতে পারেননি তিনি। ইউএস ওপেনে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের আত্মবিশ্বাস এবং সাপোর্ট স্টাফদের উপর ভরসা রেখে প্রতিযোগিতায় নামেন। প্রস্তুতির জন্যও হাতে ছিল খুব বেশি সময় না। তবু শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঠল তাঁর হাতেই।
তৃতীয় সেটেই ম্যাচের মোড়
ফাইনালের প্রথম দুই সেটে দুই তারকাই একে অপরকে টক্কর দিয়েছেন। প্রথম সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান রিবাকিনা। দ্বিতীয় সেটে দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান সাবালেঙ্কা। ৭-৫ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচ সমতায় ফেরান তিনি।
তবে তৃতীয় সেটে সেই সাবালেঙ্কাকে আর দেখা যায়নি। চাপের মুহূর্তে একাধিক ভুল করেন তিনি। সার্ভিসেও ছন্দ হারান। রিবাকিনা নিখুঁত ছিলেন না, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তুলনায় ভাল সার্ভিস করে এবং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৬-২ ব্যবধানে সেট জিতে খেতাব নিশ্চিত করেন।
বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়কে হারিয়ে রিবাকিনার জয় অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ১০ বার শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে সাবালেঙ্কাই তাঁর কাছে হেরেছেন ছ’বার।
র্যাকেট আছড়ে হতাশা প্রকাশ সাবালেঙ্কার
হারের ধাক্কা সামলাতে পারেননি সাবালেঙ্কা। ইউএস ওপেনে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি শীর্ষস্থানও হারিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেই হতাশার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
র্যাকেট আছড়ে ভেঙে ফেলেন বেলারুশের তারকা। এমনকি ছবি তুলতে কাছে যাওয়া এক সম্প্রচারকারী চ্যানেলের চিত্রগ্রাহকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলে ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে সরে যেতে বলেন সাবালেঙ্কা।
দ্বিতীয় সেটে লড়াইয়ে ফিরে আসার পরও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখতে পারলেন না সাবালেঙ্কা। দু’বছর পর ইউএস ওপেনের মঞ্চে খেতাব হাতছাড়া হওয়ার হতাশাই যেন ম্যাচ শেষে তাঁর আচরণে ফুটে উঠল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।