বোর্ড ভাঙার পথে শ্রীলঙ্কা?
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে ফের তীব্র অস্থিরতা। সাম্প্রতিক খারাপ পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন দেশের প্রেসিডেন্ট Anura Kumara Dissanayake। শুক্রবার রাতেই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা, যা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনে বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন Shammi Silva। সেখানেই বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এমনকি সিলভাকে সরিয়ে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করার সম্ভাবনাও জোরালো। পরে নির্বাচন করে নতুন বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে Sri Lanka national cricket team-এর ধারাবাহিক খারাপ ফল, আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে পতন, এবং দলের ভিতরে অসন্তোষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে, যা প্রশাসনের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। শ্রীলঙ্কার ১৯৭৩ সালের ক্রীড়া আইন অনুযায়ী সরকার চাইলে যে কোনও ক্রীড়া সংস্থার বোর্ড ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা International Cricket Council-এর নিয়ম অনুযায়ী, সরকার সরাসরি ক্রিকেট বোর্ডে হস্তক্ষেপ করলে সেই দেশের সদস্যপদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। গত বছরও এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগের জেরে শ্রীলঙ্কার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আইসিসি। তার ফলে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাই এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখছে সরকার।
প্রেসিডেন্ট চাইছেন, বোর্ড প্রধান সিলভা নিজে থেকেই পদত্যাগ করুন, যাতে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এড়ানো যায়। তাঁর মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনার পক্ষেই মত শাসক মহলের।
সব মিলিয়ে, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট এখন এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার চাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিয়মের বাধ্যবাধকতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?