পহেলগাঁও থেকে ভোটের ময়দান—“পশ্চিমবঙ্গে কি যুদ্ধ চলছে?” তোপ মমতার, কেন্দ্রকে নিশানা

পশ্চিমবঙ্গে কি যুদ্ধ চলছে?” তোপ মমতার, কেন্দ্রকে নিশানা! ভোটের প্রচারপর্বে ফের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে কড়া ভাষায়…

April 23, 2026
1 min read

পশ্চিমবঙ্গে কি যুদ্ধ চলছে?” তোপ মমতার, কেন্দ্রকে নিশানা!

ভোটের প্রচারপর্বে ফের তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তুললেন নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে।

সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে তাঁর এক মন্তব্য—“পহেলগাঁওয়ের সময় সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় ছিল?” এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোট কি যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেছে?”—যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সভামঞ্চ থেকে মমতা অভিযোগ করেন, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক পক্ষপাত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরপেক্ষ না থেকে রাজনৈতিক প্রভাবিত আচরণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতন্ত্রে জোরজবরদস্তি বা অস্ত্রের ব্যবহার কোনওভাবেই কাম্য নয় এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

প্রচারের সময় একাধিক জনমুখী ইস্যুও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রকে দায়ী করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোটের পর পেট্রল-ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে, গ্যাসের সংকটও তৈরি হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণও জোরদার করেন মমতা। তিনি বিজেপিকে “রাজনৈতিক গিরগিটি” বলে কটাক্ষ করেন এবং অভিযোগ করেন, রাজ্যে টাকা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, জনগণকে এসব প্রলোভনে না পড়ার জন্য সচেতন থাকতে হবে।

ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গণনা ধীর করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হতে পারে এবং প্রথম দিকে ভুল ফলাফল দেখানো হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃত ফল প্রকাশ পাবে বলে তিনি আশাবাদী।

জনসভায় মমতা বারবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কখনও রান্নার প্রসঙ্গ তুলে, কখনও স্থানীয় খাবার নিয়ে কথা বলে জনতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেন। তবে তার মধ্যেও রাজনৈতিক বার্তা ছিল স্পষ্ট—তাঁর মতে, রাজ্যের উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান সরকারকেই সমর্থন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় নীতির কারণে রাজ্যে শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান কমছে। পাশাপাশি রেল পরিষেবার মান নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, মমতার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন ছিল তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ, অন্যদিকে ছিল নির্বাচনী বার্তা। তাঁর ভাষায়, এই ভোট শুধু সরকার বদলের নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ ও মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভোটের আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং প্রচারপর্ব শেষের দিকে এসে লড়াই আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *