ভোটমুখী সভায় কলকাতাকে নিয়ে সরব শাহ!
ভোটের আবহে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান। সেই আবহেই দমদম উত্তরের জনসভা থেকে তৃণমূল সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে একের পর এক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ, শিল্প, নিরাপত্তা— একাধিক ইস্যু।
শাহের দাবি, একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কলকাতা আজ তার পুরনো গৌরব হারিয়েছে। তাঁর কথায়, “দিদি এবং কমিউনিস্টদের শাসনে কলকাতা এখনও বস্তির শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, শহরের উন্নয়নের বদলে বস্তিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা হচ্ছে।
শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি শাহ, প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কলকাতা মেট্রোর পরিধি তিনগুণ বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিষেবা ব্যবস্থার সংস্কার এবং “হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার” আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় ইস্যুতেও সরব হন তিনি। Narendra Modi-র নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ সেই দৃঢ়তারই প্রতীক। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অতীতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি আটকে রাখা হয়েছিল রাজনৈতিক স্বার্থে।
শাহের বক্তৃতায় উঠে আসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রসঙ্গও। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই আইন কার্যকর করা হবে, যা দেশের আইনি কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে নারী সুরক্ষা নিয়েও বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে রাজ্যের মহিলারা আরও নিরাপদ পরিবেশ পাবেন।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শিল্পপলায়নের অভিযোগও তোলেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, একের পর এক শিল্প পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যার জন্য দায়ী প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও দুর্নীতি। তিনি বলেন, “একসময় শিল্পের সূচনা হয়েছিল এই বাংলায়, এখন সেই শিল্পই অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে।”
সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট— ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে শাহ বলেন, এই নির্বাচন শুধু দল বদলের নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করতে এবং উন্নয়নের পথে ফেরাতে ভোট দিন।”
সব মিলিয়ে, দমদমের সভা থেকে শাহের বক্তব্যে যেমন ছিল তীব্র আক্রমণ, তেমনই ছিল প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা— যা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?