প্রথম দফার ভোটের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি!
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা ভোটকে ঘিরে প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— কারা ভোট দিতে পারবেন? সেই উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাইবুনালে ঝুলে থাকা ভোটারদের আবেদন মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হবে। এর ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাবে দ্রুত। এই তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি যাঁদের আবেদন বাতিল হবে, তাঁদের নামও স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার আওতায় নির্দেশ দিয়েছে, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হবে, তাঁদের নামও চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুযোগ পাচ্ছেন বহু ভোটার।
প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটার সংখ্যা এখন প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি। এর আগে যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের অনেকেই ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন। সেই সব মামলার নিষ্পত্তির পরেই তৈরি হচ্ছে এই হালনাগাদ তালিকা।
এ দিকে, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয়েছে ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ১৬টি জেলায় এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এই সময় কোনও রাজনৈতিক প্রচার, সভা, মিছিল বা বক্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি বাইরের রাজনৈতিক কর্মীদেরও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন হোটেল, লজ এবং গেস্ট হাউসগুলিতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও বীরভূমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুধু মুর্শিদাবাদেই মোতায়েন থাকবে ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী, যা এই দফায় সর্বাধিক।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া— বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রশাসনের কাছে এটি বড়সড় চ্যালেঞ্জ।
প্রার্থী সংখ্যাও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী লড়ছেন এই দফায়। কিছু আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১৪-১৫ জন পর্যন্ত, যা প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখা— এই তিনটি বিষয়েই বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। এখন অপেক্ষা ২৩ এপ্রিলের, যেদিন গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নেবেন লক্ষ লক্ষ ভোটার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?