চেহারা নিয়ে কটূক্তি থেকে আত্মবিশ্বাস— সাইনার লড়াইয়ের গল্প

সাইনার লড়াইয়ের গল্প! ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুদের হাসিঠাট্টা কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই অকপটে ভাগ করে নিলেন খুদে অভিনেত্রী সাইনা চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে কনে দেখা আলো-তে ‘লাজো’ চরিত্রে…

April 16, 2026
1 min read

সাইনার লড়াইয়ের গল্প!

ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুদের হাসিঠাট্টা কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে, সেই অভিজ্ঞতার কথাই অকপটে ভাগ করে নিলেন খুদে অভিনেত্রী সাইনা চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে কনে দেখা আলো-তে ‘লাজো’ চরিত্রে দর্শকের মন জিতছেন তিনি। তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ মোটেই সহজ ছিল না।

দশম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করে এখন একাদশে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাইনা। ‘হোমস্কুলিং’-এর মাধ্যমে পড়াশোনা করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, এই পদ্ধতি তাঁকে নিজের ব্যক্তিত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে। তবে এর একটি খারাপ দিকও রয়েছে— নতুন বন্ধু তৈরি করার সুযোগ কমে যায়। তবুও, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এই সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

সাইনা বলেন, এক সময় নিজের চেহারা নিয়ে তিনি ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। বিশেষ করে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠীদের কাছ থেকে ‘ফ্যাটশেমিং’-এর শিকার হন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তখন থেকেই মনে হতে শুরু করে— তাঁকে সবার চেয়ে ভালো হতে হবে, জনপ্রিয় হতে হবে। এই চাপই ধীরে ধীরে তাঁকে ভিতর থেকে অস্থির করে তোলে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে হোমস্কুলিং। বাড়িতে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি নিজের মতো করে ভাবার, নিজেকে বোঝার সময় পেয়েছেন। সেই সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও শিখেছেন। সাইনার কথায়, “আগে সব সময় মনে হত আমাকে সবার সেরা হতে হবে। এখন বুঝেছি, নিজেকে বোঝাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সমাজমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, আজকের প্রজন্ম খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভোগে— কারও ঠোঁট পাতলা বলে সমস্যা, কেউ আবার উল্টোটা নিয়ে চিন্তিত। এই তুলনার সংস্কৃতিই অনেক সময় আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।

নিজের চেহারা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সাইনা জানান, ছোটবেলায় নাক নিয়ে একটু অস্বস্তি ছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, তাঁর নাক বাঁকা। তবে কখনও অস্ত্রোপচারের কথা ভাবেননি। বরং সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের সেই ‘অপূর্ণতা’কেই গ্রহণ করেছেন। এখন তাঁর কথায়, “এই বাঁকা নাকটাই আমাকে আলাদা করে তোলে।”

অভিনয় জীবনে আসার প্রসঙ্গেও বাস্তববাদী সাইনা। তিনি স্বীকার করেন, বাবা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়-এর পরিচিতি থাকায় ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করা সহজ হয়েছে। তবে নিজের জায়গা তৈরি করতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। “মানুষ আমাকে আমার কাজের জন্যই পছন্দ করে”— দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তাঁর কথায় স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে, সাইনার গল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়— বরং নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এক কিশোরীর লড়াই, যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *