জলের তলায় হারানো সভ্যতা: ২,৪০০ বছরের পুরনো শহরের নতুন খোঁজ

২,৪০০ বছরের পুরনো শহরের নতুন খোঁজ! এক সময় সেখানে ছিল জনজীবনের কোলাহল, বসতি, ধর্মীয় আচার—এক কথায় পূর্ণাঙ্গ এক শহর। আজ সবটাই তলিয়ে আছে জলের নীচে। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে টাইগ্রিস নদী-র…

April 15, 2026
1 min read

২,৪০০ বছরের পুরনো শহরের নতুন খোঁজ!

এক সময় সেখানে ছিল জনজীবনের কোলাহল, বসতি, ধর্মীয় আচার—এক কথায় পূর্ণাঙ্গ এক শহর। আজ সবটাই তলিয়ে আছে জলের নীচে। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে টাইগ্রিস নদী-র তীরে এমনই এক প্রায় ২,৪০০ বছরের পুরনো হারানো জনপদের সন্ধান মিলেছিল আগেই। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা সেই শহর সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনছে।

এই প্রাচীন শহরটি বর্তমানে ডুবে রয়েছে ডিকলে বাঁধ-এর জলাধারের নীচে, যা তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলের দিয়ারবাকি প্রদেশে অবস্থিত। বহু বছর আগে বাঁধ নির্মাণের ফলে এই জনপদটি সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। কিন্তু ইতিহাস সেখানে থেমে থাকেনি—বরং জলের নীচেই লুকিয়ে থেকেছে এক বিস্মৃত সভ্যতার চিহ্ন।

ডিকলে বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষক ইরফান ইলদিজ়-এর নেতৃত্বে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হয়। বিশেষ ডুবুরি দল নামিয়ে জলাধারের গভীরে উন্নত প্রযুক্তিতে ছবি তোলা হয়। সেই সব ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা আবিষ্কার করেন—শহরের গঠন ও বিন্যাস এখনও অনেকটাই অক্ষত রয়েছে, যদিও শতাব্দীর পর শতাব্দী তা জলের তলায় ডুবে আছে।

এই গবেষণায় উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। পাওয়া গেছে সমাধিস্থল, উপাসনাস্থল, এমনকি একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও চিহ্ন। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল—এই স্থাপনাগুলি এলোমেলো ভাবে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে পাশাপাশি গড়ে উঠেছিল। সমাধিস্থলের কাছেই একটি মসজিদ, তার পাশেই মাদ্রাসা এবং সংলগ্ন কবরস্থান—সব মিলিয়ে বোঝা যায়, এটি ছিল একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ জনপদ।

গবেষণার ফুটেজে আরও দেখা গিয়েছে, এই ধর্মীয় কাঠামোগুলির আশেপাশে একটি স্নানাগারও ছিল। পাহাড়ের ঢাল ও পবিত্র স্থাপনার মাঝামাঝি এই স্নানাগার ইঙ্গিত দেয়, শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ও সংস্কৃতি কতটা উন্নত ছিল।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, টাইগ্রিস নদী উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান-পতনের সাক্ষী। ১৯৮৬ সালে যখন ডিকলে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয় এবং ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তা সম্পূর্ণ হয়, তখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থানান্তর করা হলেও শহরের বড় অংশ জলের নীচেই থেকে যায়।

তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এই জনপদ ঠিক কতটা বিস্তৃত ছিল, তার পূর্ণ মানচিত্র এখনও অজানা। গবেষকদের মতে, আরও বিশদ অনুসন্ধানের জন্য জলাধারের জলের স্তর কমানো প্রয়োজন। পাশাপাশি, সময়ের সঙ্গে পলির স্তর জমে গেলে এই প্রাচীন শহরের কাঠামো আরও বদলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, টাইগ্রিসের তীরবর্তী অঞ্চলে এর আগে মসুল এলাকাতেও প্রায় সমসাময়িক এক প্রাচীন শহরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রমাণ করে—এই নদী ঘিরেই একসময় গড়ে উঠেছিল একাধিক সমৃদ্ধ সভ্যতা।

সব মিলিয়ে, জলের তলায় চাপা পড়ে থাকা এই শহর যেন ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী—যা আজও আমাদের অতীতের গল্প শোনাতে প্রস্তুত, যদি আমরা তাকে শোনার মতো করে খুঁজে নিতে পারি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *