হাসপাতালে আশা ভোসলে কেমন ছিলেন, জানালেন মুমতাজ়!
ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র Asha Bhosle-এর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়াতেই ছুটে গিয়েছিলেন বহু ঘনিষ্ঠজন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু অভিনেত্রী Mumtaz। হাসপাতালে গিয়ে আশাকে শেষবার কেমন দেখেছিলেন তিনি, সেই স্মৃতিই ভাগ করে নিয়েছেন মুমতাজ়।
শনিবার রাতে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আশাকে। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। রবিবার সকালে যখন মুমতাজ় হাসপাতালে পৌঁছন, তখন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি জানান, তখন আর কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না আশা। চোখে-মুখে ক্লান্তি থাকলেও, তাঁর উপস্থিতি যেন এখনও ভরিয়ে রেখেছিল চারপাশ।
মুমতাজ়ের কথায়, “আমি যখন ওকে দেখতে গেলাম, তখন ও আর কথা বলতে পারছিল না। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণ পরেই খবর পেলাম—ও আর নেই।” এই আকস্মিক বিদায় যেন তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে শেষ দেখা শুধু এই হাসপাতালের দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মুমতাজ় জানান, মৃত্যুর ঠিক এক দিন আগেও তিনি আশার বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সময় আশাকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, এখনও যেন এক অদ্ভুত ঔজ্জ্বল্য রয়েছে মুখে। “ওঁর মুখে একটা আলাদা আলো ছিল,”—স্মৃতিচারণে বলেন তিনি।
Asha Bhosle ও Mumtaz—এই দুই তারকার বন্ধুত্ব কিন্তু আজকের নয়। এক সময় বলিউডে তাঁদের যুগলবন্দি দর্শকদের উপহার দিয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গান ও স্মরণীয় দৃশ্য। ‘কোই শহেরি বাবু’ বা ‘দুনিয়া মে লোগো কো’-এর মতো গানে তাঁদের উপস্থিতি আজও নস্টালজিয়ার অংশ।
শুধু কাজের সম্পর্ক নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল গভীর বন্ধন। বয়স বাড়লেও সেই বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। এমনকি কিছু দিন আগেই এক সামাজিক অনুষ্ঠানে—ক্রিকেটার পরিবারের বিয়েতে—তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখনই মুমতাজ় লক্ষ্য করেছিলেন, আশার শরীর খুব একটা ভাল নেই।
তবুও, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনের প্রতি আশার সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস যেন হারায়নি। গান, হাসি আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি—এই সব মিলিয়েই তিনি ছিলেন আলাদা। তাই তাঁর প্রয়াণ শুধু সঙ্গীতজগতের ক্ষতি নয়, ব্যক্তিগত ভাবে একাধিক মানুষের জীবনে তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা।
১৩ এপ্রিল মুম্বইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাঁর। শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন বহু তারকা, সহকর্মী ও অনুরাগীরা। সকলের চোখেই ছিল একটাই প্রশ্ন—এমন একজন শিল্পী, যাঁর কণ্ঠে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুগ্ধ হয়েছে, তাঁকে কি আদৌ ভুলে থাকা সম্ভব?
সম্ভবত নয়। কারণ Asha Bhosle-এর কণ্ঠ আজও বেঁচে থাকবে তাঁর অসংখ্য গানে, আর সেই সুরেই বারবার ফিরে আসবে তাঁর স্মৃতি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?