বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান হকিতে নতুন বিতর্ক!
পাকিস্তান হকি আবারও শিরোনামে—তবে সাফল্যের জন্য নয়, বরং বিতর্কের জন্য। গত কয়েক মাস ধরেই নানা অস্বস্তিকর ঘটনায় জর্জরিত দলটি এ বার বড় ধাক্কা খেল কোচিং স্তরে। বিশ্বকাপ ও প্রো নেশনস লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার আগে হঠাৎ করেই অস্ট্রেলিয়ান কোচ কলিন ব্যাচ-কে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান হকি ফেডারেশন। এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ দলের খেলোয়াড়েরা।
আট বছর পর হকি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল পাকিস্তান—আর সেই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাচের। আধুনিক হকির কৌশল, শৃঙ্খলা এবং টিম ম্যানেজমেন্ট—সব দিকেই উন্নতি করেছিলেন তিনি। অথচ, ঠিক সেই সময়েই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাচের পরিবর্তে কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন অলিম্পিয়ান মনজ়ুর উল হাসান-কে। ’৭০ এবং ’৮০-র দশকে যিনি ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, এবার তাঁর কাঁধেই বর্তেছে বড় দায়িত্ব—দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনা।
তবে এই পরিবর্তন নিয়ে দলীয় শিবিরে স্বস্তি নেই। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, একাধিক খেলোয়াড় এই সিদ্ধান্তে হতবাক। তাঁদের মতে, ব্যাচের সঙ্গে দলের একটি সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি শুধু কোচ নন, বরং একজন মেন্টরের মতো পাশে ছিলেন। তাঁর হঠাৎ বিদায়ে দল মানসিকভাবেও ধাক্কা খেয়েছে।
এক খেলোয়াড়ের কথায়, “আমরা সবাই তাঁর অধীনে খেলতে স্বচ্ছন্দ ছিলাম। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য বড় ধাক্কা।” অনেকে মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
শুধু কোচ বদল নয়, নির্বাচক কমিটিতেও বড় রদবদল হয়েছে। নতুন নির্বাচক কমিটির নেতৃত্বে আনা হয়েছে সামিউল্লাহ খান-কে। ফলে পুরো কাঠামোতেই একসঙ্গে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠছে।
গত কয়েক মাসে পাকিস্তান হকি নানা সমস্যার মুখে পড়েছে—অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের অসন্তোষ। এর মধ্যেই কোচ ছাঁটাইয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচিং সেটআপে দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। সামনে বড় মঞ্চ—বিশ্বকাপ। সেখানে ভালো ফল করতে হলে শুধু কৌশল নয়, দলের ভিতর ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান হকি যেন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সাফল্যের পথ খুলবে, না কি আরও অস্থিরতা বাড়াবে—তার উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?