নানা ধর্মের শিকড় পেরিয়ে জ়রীন কতরকের বিদায় নিয়ে বিতর্ক!
একটি পরিবার, যেখানে একসঙ্গে মিশে আছে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতি—সেখানেই উঠে এল এক সংবেদনশীল প্রশ্ন। কেন মুসলিম পরিবারে বিয়ে করা, ইহুদি পরিবারে জন্ম নেওয়া এক নারীকে শেষ বিদায়ে হিন্দু রীতিতে দাহ করা হল? এই প্রশ্ন ঘিরেই আলোচনায় উঠে এসেছেন প্রয়াত জ়রীন কতরক।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রয়াত হন জ়রীন, যিনি ছিলেন অভিনেতা Zayed Khan-এর মা এবং Hrithik Roshan-এর প্রাক্তন শাশুড়ি। তাঁর জীবনটাই ছিল বহুসাংস্কৃতিক এক যাত্রা—জন্ম এক ইহুদি পরিবারে, পরে বিয়ে করেন Sanjay Khan-কে, মুসলিম রীতিনীতি মেনে। কিন্তু তাঁর শেষকৃত্য হয় হিন্দু প্রথা অনুযায়ী, যা নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক।
এই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন তাঁর ছেলে জ়ায়েদ খান নিজেই। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, “একজন মানুষের শেষ ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ কী বলল, সেটা বড় নয়।” তাঁর কথায় উঠে এসেছে গভীর আবেগ এবং পরিবারের অবস্থান—ধর্ম নয়, মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেই তাঁরা প্রাধান্য দিয়েছেন।
জ়ায়েদ আরও জানান, তাঁর মা জীবনের শেষ দিকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন—তিনি চান তাঁর দেহ দাহ করা হোক এবং চিতাভস্ম নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হোক। তাঁর কাছে সেটাই ছিল মুক্তির পথ। সেই ইচ্ছাকেই সম্মান জানিয়েই পরিবার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
জ়রীনের জীবন যেন এক সেতুবন্ধন—ধর্ম, সংস্কৃতি আর সম্পর্কের মাঝে। খুব অল্প বয়সে সঞ্জয় খানের সঙ্গে পরিচয়, তারপর প্রেম এবং ১৯৬৬ সালে তাঁদের বিয়ে। বিয়ের পর তিনি ধর্মান্তরিত হলেও, নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অনুভূতিকে কখনও অস্বীকার করেননি।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নানা মত উঠে আসে—কেউ প্রশ্ন তোলেন, কেউ সমর্থন জানান। তবে জ়ায়েদের বক্তব্যে পরিষ্কার, তাঁদের পরিবার নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ বলেই মনে করে। তাই বাইরের সমালোচনার জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও তাঁরা অনুভব করেন না।
এই ঘটনা আসলে আমাদের সামনে বড় এক বাস্তবতাকে তুলে ধরে—একজন মানুষের পরিচয় কি শুধু তাঁর ধর্মে সীমাবদ্ধ? নাকি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা আর ইচ্ছাই তাকে গড়ে তোলে?
জ়রীন কতরকের বিদায় সেই প্রশ্নটাই আবার নতুন করে সামনে আনল। শেষ পর্যন্ত, সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটাই কথা স্পষ্ট—ভালোবাসা, সম্মান আর ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই সবচেয়ে বড়।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না