হকি ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ৪-১ গোলে!
কলকাতার যুবভারতীর নবনির্মিত অ্যাস্ট্রোটার্ফ এবার শুধু ফুটবলের জন্য নয়—হকিতেও সেই মাঠের উন্মাদনা দেখলো সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। কলকাতা প্রিমিয়ার হকি লিগের আলোচিত ডার্বিতে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে, এবং সেই জয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই মোহনবাগান খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মনোভাব চোখে পড়ছিল। খেলা চালিয়ে নিয়ে গিয়ে তারা মাঠে নিজেদের দাপট দেখিয়েছে। প্রথম হাফে ববি সিংহ ধামি জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পরবর্তীতে এক করে গোল আনে মহম্মদ রাহিল এবং শ্রেয়স ধুপে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সিমরনজ্যোৎ সিংহ একমাত্র গোল করলেও সেটি সমান করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের বিশেষ মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি ছিল মোহনবাগানের সদ্য প্রয়াত সমর্থক শান্তি চক্রবর্তীর স্মরণে টিফো প্রদর্শন। সমর্থকরা মাঠে উপস্থিত থেকে তাদের প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন এবং জয়ের উল্লাসে মাঠ ছেয়ে গিয়েছে সবুজ-মেরুন রঙ।
ববি সিংহ ধামি ম্যাচ শেষে খুশি মুখে বললেন, “দল জিতেছে, সেটাই বড় কথা। ডার্বি জয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমর্থকদের সামনে জেতা বিশেষ অনুভূতি দিয়েছে। এবার লক্ষ্য ট্রফি জেতা—এই জয়ের সঙ্গে আমরা সেই পথে আরও এগিয়ে গেলাম।”
যুবভারতীর এই নতুন অ্যাস্ট্রোটার্ফে হকি খেলা ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। আগে এই মাঠে শুধুই ফুটবল দেখা যেত। এবার হকিতে মোহনবাগান তাদের দাপট দেখিয়েছে এবং ডার্বিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে। খেলার শুরু থেকেই দলের সমন্বয় এবং আক্রমণাত্মক খেলায় বোঝা যায় যে, তারা এই ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা অবশ্য হাল ছাড়েননি। সিমরনজ্যোৎ সিংহের একটি গোল মাঠে উত্তেজনা তৈরি করলেও মোহনবাগানের খেলার তীব্রতা সমান করার সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে তারা ডার্বি জিতেছে।
ম্যাচের শেষে সমর্থকরা মাঠে আনন্দ উল্লাসে ভাসতে থাকেন। নবনির্মিত অ্যাস্ট্রোটার্ফের দর্শকরা হকি খেলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মোহনবাগানের এই জয় কেবল দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয়নি, বরং হকি লিগে তাদের জয়পথকে আরও দৃঢ় করেছে।
এই ডার্বির জয় মোহনবাগানের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ববি সিংহ ধামি এবং তার সতীর্থরা এখন ট্রফি জয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। যুবভারতীর মাঠে সবুজ-মেরুন রঙের উল্লাস যেন এই ডার্বির ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখলো।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না