বিদায়ী রাজ্যপালকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক!
পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী রাজ্যপাল C. V. Ananda Bose-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। আলিপুরে তাঁদের এই সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজ্যপালের পদ থেকে বোসের বিদায় “অবিচার” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলেই তাঁর মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বোস। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—ঠিক কী কারণে হঠাৎ এই পদত্যাগ।
‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও এই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, বোসের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। আরও প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “পাঁচ বছরের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। তবু নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয় এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে অন্যায় এবং অবিচার বলেই মনে হচ্ছে।
ধর্না শেষ করেই সৌজন্য সাক্ষাৎ
ধর্মতলায় চলা ধর্না কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই মমতা ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন। সেই ঘোষণা মতোই ধর্নাস্থল থেকে তিনি সরাসরি আলিপুরে যান।
সেখানে একটি অতিথিশালায় বর্তমানে রয়েছেন আনন্দ বোস। সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনি কাল চলে যাবেন। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি এবং আমাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল।”
নতুন রাজ্যপাল আসছেন শিগগিরই
এদিকে রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন R. N. Ravi। তিনি বুধবার পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবেন বলে জানা গেছে এবং বৃহস্পতিবার তাঁর শপথগ্রহণের কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্নও উঠেছে—রাজ্যে থাকার পরেও বিদায়ী রাজ্যপাল কেন সরকারি রাজভবনে না থেকে আলিপুরের অতিথিশালায় উঠেছেন?
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন। তাঁর মতে, এটি সম্পূর্ণই বোসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং শিষ্টাচারের অংশ।
সফর পরিকল্পনাও বদলে গিয়েছিল
মমতা আরও জানান, বোসের শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। সেই সফরের জন্য তাঁর জন্য বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাগডোগরা না গিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। ফলে সেই সফর আর হয়নি।
বোস কী বলেছিলেন
যদিও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে, আনন্দ বোস নিজে জানিয়েছেন যে তিনি ভেবেচিন্তেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সময়টিই ইস্তফা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে তিনি মনে করেছেন।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের এই হঠাৎ বিদায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এমন পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ও বিতর্ক চলতেই থাকছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?