দুবাই থেকে কলকাতায় ফিরলেন শুভশ্রী ও ইউভান!
কয়েক দিন ধরে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে নিজের শহরে ফিরলেন অভিনেত্রী Subhashree Ganguly। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে Yuvaan Chakraborty। দুবাইয়ে আটকে থাকার দুশ্চিন্তা কাটিয়ে শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় নিরাপদে পৌঁছনোর পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দুই পরিবারই।
এই কঠিন সময়টাকে অনেকেই বলছেন যেন একরকম “যুদ্ধ জিতে ফেরা”। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও সংঘাতের জেরে হঠাৎ করেই অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়েই দুবাইয়ে ছিলেন শুভশ্রী ও তাঁর ছেলে।
বিমানবন্দরে আবেগঘন মুহূর্ত
কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব বেশি কথা বলতে চাননি অভিনেত্রী। তবু সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সকলের ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে মানসিক শক্তি দিয়েছে।
তিনি জানান, “সকলকে ধন্যবাদ। ওই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অনেকেই আমাদের জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। এখনই সব অভিজ্ঞতা বলতে পারব না। পরিস্থিতি খুব ভয়ানক ছিল এবং আমি সত্যিই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
এ দিন বিমানবন্দরে পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার মুহূর্ত ছিল বেশ আবেগঘন। মাকে দেখেই ছোট মেয়ে ইয়ালিনি জড়িয়ে ধরে। পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে স্ত্রী ও সন্তানকে স্বাগত জানান পরিচালক-রাজনীতিক Raj Chakraborty।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই সফর
আসলে এই সফরের শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ পারিবারিক ভ্রমণ হিসেবে। ছেলের স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সে মায়ের সঙ্গে দুবাই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সেই আবদার পূরণ করতেই কয়েক দিনের জন্য শহর ছাড়েন শুভশ্রী।
কিন্তু কেউই ভাবেননি যে পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হঠাৎ করেই আকাশপথে বিঘ্ন ঘটে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি তাঁদের।
পরিবারে উদ্বেগের রাত
এই সময়টা ছিল পরিবারের কাছে ভীষণ উদ্বেগের। অভিনেত্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, যে হোটেলে তাঁরা ছিলেন তার আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। যদিও মা ও ছেলে নিরাপদেই ছিলেন, তবু দূরে বসে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ থামছিল না।
স্বাভাবিকভাবেই যতক্ষণ না তাঁদের নিরাপদে ফেরার খবর পাওয়া যাচ্ছিল, ততক্ষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন দুই পরিবারের সদস্যরাই।
দেশে ফেরার জটিলতা
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ মার্চ কলকাতায় ফেরার কথা ছিল শুভশ্রী ও ইউভানের। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সেই যাত্রা পিছিয়ে যায়। পরে বিকল্প ব্যবস্থা করে মুম্বই হয়ে শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছন তাঁরা।
এই পুরো সময়টা বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন রাজ চক্রবর্তী। তিনি জানান, প্রয়োজন হলে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল যাতে দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।
অন্যদের জন্যও প্রার্থনা
স্ত্রী ও ছেলে নিরাপদে ফিরে এলেও এখনও অনেক মানুষ বিদেশে আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ঘরে ফেরার জন্য প্রার্থনা করেছেন রাজ।
সব মিলিয়ে কয়েক দিনের দুশ্চিন্তা শেষে এখন স্বস্তির পরিবেশ গঙ্গোপাধ্যায় ও চক্রবর্তী পরিবারে। তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ধাক্কা কাটাতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন অভিনেত্রী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?