আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা!
আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বরাবরই টানাপোড়েনের। কিন্তু এবার সেই উত্তেজনা যেন সরাসরি সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি, বিমানহানা, পাল্টা হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত যুদ্ধকালীন। দুই পক্ষেরই দাবি-পাল্টা দাবিতে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
আফগানিস্তানের তালিবান সরকার অভিযোগ করেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। কাবুলের বক্তব্য, কাবুল, কন্দহর এবং পাকটিকার কয়েকটি অঞ্চলে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। পাল্টা আঘাতে পাকিস্তানের অন্তত ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে তারা।
তবে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মতে, সংঘর্ষে তাদের মাত্র দুই জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। উল্টোদিকে আফগানিস্তানের ৩৬ জন সেনা মারা গিয়েছেন বলে তাদের দাবি। দুই দেশের পরিসংখ্যানের এই বিস্তর ফারাক থেকেই বোঝা যাচ্ছে, প্রকৃত পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা “অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক” নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং যে কোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত। পাকিস্তানের অভিযোগ, সীমান্ত বরাবর আফগান বাহিনীর ‘উস্কানিমূলক আচরণ’-এর কারণেই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তান পুরো ঘটনার জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়বিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানই প্রথমে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালায়। তাঁর দাবি, বিমানহানায় কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার ভোরে কাবুল শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তালিবানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পাক-আফগান সীমান্ত ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। এর জবাবে আফগান বাহিনী মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের একাধিক সীমান্তঘাঁটি এবং অন্তত ১৯টি সেনাচৌকি ধ্বংস করেছে বলে তাদের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা, জঙ্গি আশ্রয় এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাস—এই সব বিষয় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই জমে থাকা উত্তেজনাকেই বিস্ফোরণের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?