সংখ্যালঘু ভোটের নতুন সমীকরণে ২০২৬: তৃণমূলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

তৃণমূলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা! দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ নির্ভর করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর উপর। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা…

February 16, 2026
1 min read

তৃণমূলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা!

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ নির্ভর করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর উপর। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সেই পরিচিত সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো শাসকদলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— এই ‘ভোট পুঁজি’ অটুট রাখা।

কেন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে?

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর। তবে তৃণমূলের অভ্যন্তরে আলোচনায় আরও বড় উদ্বেগ— সংখ্যালঘু ভোটের সম্ভাব্য বিভাজন। গত পাঁচ বছরে একাধিক রাজনৈতিক শক্তি এই ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান

প্রথম বড় ফ্যাক্টর হলো ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। ২০২১ সালে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এখন তারা রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সংগঠিত। দলের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি সক্রিয় রাজনীতিতে কম থাকলেও তাঁর ভাই নওশাদ সিদ্দিকি মাঠে সংগঠন গড়ে তুলেছেন। সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি দলিত ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে তাঁর প্রচার তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলেন হুমায়ুন কবীর ও তাঁর জনতা উন্নয়ন পার্টি। নতুন দল হলেও স্থানীয় স্তরে তিনি ইতিমধ্যেই আলোচনায়। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এলাকায় তাঁর প্রভাব নিয়ে তৃণমূলের উদ্বেগ রয়েছে— কারণ সরাসরি জেতার চেয়ে ভোট কাটার সম্ভাবনাই বড় চিন্তা।

মিমের সক্রিয়তা

তৃতীয় বড় পরিবর্তন এসেছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)-এর সক্রিয়তায়। আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র নেতৃত্বে দলটি এবার জেলা ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলছে। উত্তর দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তাদের বিস্তার তৃণমূলের জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

বাম-কংগ্রেসের প্রভাব এখনও রয়েছে

যদিও রাজ্য রাজনীতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) আগের মতো শক্তিশালী নয়, তবুও মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে তাদের ভিত্তি এখনও অটুট। এই ভোটের বড় অংশই সংখ্যালঘু সমাজ থেকে আসে— ফলে বিভাজনের সম্ভাবনা বাড়ছে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষোভও ফ্যাক্টর

সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, বিভিন্ন কারণে কিছু ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জমিয়েত উলেমা-ই-হিন্দ-এর রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনেক বিষয় নিয়ে মতভেদ থাকলেও আপাতত বিজেপিকে ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য।

সংখ্যার হিসাব বলছে কী?

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট ২৫%-এর বেশি, আর ৭৪টিতে তা ৪০% ছাড়িয়েছে। ২০২১ সালে এই আসনগুলির বিপুল অংশ জিতেছিল তৃণমূল। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে— অন্যদিকে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে হিন্দু ভোট একত্রিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেষ কথা

সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে তৃণমূলের জন্য মূল প্রশ্ন একটাই— বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা সংখ্যালঘু সমর্থন কতটা অটুট রাখা যাবে। এই সমীকরণই নির্ধারণ করতে পারে নির্বাচনের ফলাফল। এখন দেখার, নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলির উত্থান বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলে ভোটবাক্সে।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *