স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা!
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে ঘিরে সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ একাধিক বিরোধী দল যৌথ ভাবে এই প্রস্তাব আনতে উদ্যোগী হলেও, তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এখনও তাতে সই করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এই অবস্থানকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।
মঙ্গলবার কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ লোকসভার সচিবালয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে সংসদীয় আইনের ৯৪(সি) ধারায় নোটিস জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ ও মহম্মদ জাভেদ, পাশাপাশি এসপি ও ডিএমকের প্রতিনিধিরাও। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। তবে তৃণমূল সাংসদদের নাম সেখানে নেই।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার সভা পরিচালনা করেন না। ফলে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি দিনগুলিতে লোকসভায় ওম বিড়লাকে দেখা যাবে না বলেই জানা গেছে। সচিবালয় সূত্রে খবর, মার্চে অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই নোটিস নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
বিরোধীদের অভিযোগ, বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে বিরোধী সাংসদদের, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীকে, বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আট জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে— এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্পিকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
তবে প্রশ্ন উঠেছে— তৃণমূল কেন এই উদ্যোগে সরাসরি শামিল হল না? এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে তাঁদের আপত্তি নেই, কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সব দলকে একসঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিতে হবে। সেই বিবৃতিতে অনাস্থা আনার কারণগুলি লিখিত ভাবে স্পিকারকে জানাতে হবে এবং তাঁকে জবাব দেওয়ার জন্য তিন দিন সময় দিতে হবে।
অভিষেকের বক্তব্য, “কাউকে ভুল করলে আগে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। স্পিকারকে লিখে জানানো হোক, তিনি যদি তিন দিনের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না করেন, তবেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক।” তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া মেনে চললে তৃণমূল অবশ্যই প্রস্তাবে সই করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের দিকেও ইঙ্গিত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই সরাসরি বিরোধিতা না করেও শর্ত দিয়ে নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট রাখতে চাইছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এখন শুধু সংসদীয় বিষয় নয়— বরং তা বিরোধী রাজনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও কৌশলগত সম্পর্কেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কী মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই