আইনি ঝড়ে রাজপাল যাদব!
কয়েক দিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে কৌতুকাভিনেতা রাজপাল যাদব। পর্দায় যাঁর উপস্থিতি মানেই হাসির ফোয়ারা, বাস্তব জীবনে তাঁর জন্য সময়টা মোটেই হাসির নয়। ঋণ শোধ করতে না পারার অভিযোগে আইনি জটে জড়িয়েছেন অভিনেতা। দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণও করতে হয়েছে তাঁকে। এই কঠিন সময়ে রাজপালের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন অভিনেতা সোনু সুদ।
এম. এস. মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের অভিযোগ, রাজপাল ও তাঁর স্ত্রী সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েও সেই টাকা ফেরত দেননি। অভিযোগের ভিত্তিতে বহু বছর ধরে চলা মামলার পরিণতিতে আদালতের এই কড়া সিদ্ধান্ত। সূত্রের খবর, প্রায় ৯ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালেই দিল্লির একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
সম্প্রতি অভিনেতার তরফে বকেয়া টাকা মেটানোর জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছিল। রাজপালের আইনজীবী আদালতে জানান, ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ টাকা জোগাড় করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ শোধের জন্য এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার মধ্যে রাজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার পর আর কোনও ছাড় মেলেনি।
এই টানাপড়েনের মাঝেই সোনু সুদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নজর কেড়েছে। রাজপালের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু সহানুভূতিই জানাননি, গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে এক হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন। সোনু লিখেছেন, রাজপাল দেশের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা, যিনি বছরের পর বছর ধরে দর্শকদের অসংখ্য ভাল কাজ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু জীবনে এমন সময় আসে, যখন সব কিছু এক নিমেষে ওলটপালট হয়ে যায়।
সোনু আরও জানিয়েছেন, তাঁর ছবিতে রাজপাল অভিনয় করবেন। তাঁর মতে, এটাই সঠিক সময় যখন পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতাদের একসঙ্গে দাঁড়ানো উচিত। কেউ সমস্যায় পড়লে তাঁকে একা ফেলে না দিয়ে পাশে থাকা দরকার। তবেই প্রমাণ করা যাবে, এই ইন্ডাস্ট্রি শুধুই পেশাদারিত্বে আটকে নেই— এর বাইরেও মানবিকতা আছে।
সোনু সুদের এই মন্তব্য অনেকের কাছেই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, বাস্তব জীবনে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি আগেও বার বার নজির গড়েছেন। রাজপালের ক্ষেত্রেও তিনি শুধু সহকর্মী নন, একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাই দিয়েছেন।
আত্মসমর্পণের পর রাজপাল নতুন করে বকেয়া টাকা শোধের সুযোগ পাবেন কি না, তা আদালত খতিয়ে দেখছে। যদিও অতীতেও তাঁকে একাধিক বার সময় দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার আদালত কড়া অবস্থান নিয়েছে।
হাসির আড়ালে থাকা একজন শিল্পীর এই লড়াই বলিউডের অন্দরমহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— সাফল্যের আলো ঝলমলে দুনিয়ায় ব্যক্তিগত সংকট কতটা নিঃসঙ্গ করে তোলে মানুষকে? আর সেই নিঃসঙ্গতার মুহূর্তে সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোই কি শেষ পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির আসল পরিচয় নয়?
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই