মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষা কবে? দরজা বসানো নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, উত্তরে ঘোরাফেরা আর নীরবতা

মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষা কবে? কলকাতা মেট্রোয় আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে— বিশেষ করে কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর লাইনে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন এই পথে, অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও…

February 5, 2026
1 min read

মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষা কবে?

কলকাতা মেট্রোয় আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে— বিশেষ করে কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর লাইনে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন এই পথে, অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও রয়ে গেছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। এই পরিস্থিতিতে মেট্রো স্টেশনগুলির প্ল্যাটফর্মে দরজা (প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর) বসানোর কাজ কতদূর এগোল, তা জানতে সংসদে তিনটি স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের জবাব ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বুধবার সংসদে মালা রায়ের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেয় রেলমন্ত্রক। দক্ষিণ কলকাতার এই সাংসদ জানতে চেয়েছিলেন—
১) কলকাতা মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে দরজা বসানোর কাজ কতদূর এগিয়েছে,
২) এই প্রকল্পের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে,
৩) এবং কবে নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা।

কিন্তু মালার অভিযোগ, সাড়ে চার পাতার দীর্ঘ লিখিত জবাব দেওয়া হলেও এই তিনটি প্রশ্নের কোনওটিরই সরাসরি উত্তর মেলেনি।

রেলমন্ত্রকের জবাবের শুরুতেই বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্ম চওড়া করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা অনেক স্টেশনে নেই। এখানেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই— প্ল্যাটফর্মের একেবারে ধার ঘেঁষে দরজা বসাতে গেলে আলাদা করে প্ল্যাটফর্ম চওড়া করার প্রয়োজন কোথায়? তা হলে কি প্রশ্নটি ঠিকমতো বোঝাই হয়নি, নাকি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে?

এর পর রেলমন্ত্রক কলকাতা মেট্রোর ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়। ১৯৭২ সালে মেট্রোর যাত্রা শুরু থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কত কিলোমিটার পথ তৈরি হয়েছে, আর ২০১৪ থেকে ২০২৫— অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদী জমানার ১১ বছরে কতটা সম্প্রসারণ হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু দরজা বসানোর প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই।

এতেই শেষ নয়। জোকা-এসপ্ল্যানেড, নোয়াপাড়া-বারাসত, বরানগর-ব্যারাকপুর— বিভিন্ন মেট্রো রুটে জমি সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা-সহ নানা বাধার কথাও তালিকাভুক্ত করেছে রেলমন্ত্রক। কিন্তু পুরনো মেট্রো লাইনের স্টেশনগুলিতে যাত্রী সুরক্ষার প্রশ্নে কবে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

অথচ বাস্তব উদাহরণ তো হাতের কাছেই। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্রতিটি স্টেশনেই প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর রয়েছে— মাটির নীচের স্টেশনগুলিতে সম্পূর্ণ দরজা, আর উপরের স্টেশনগুলিতে অর্ধেক দরজা। এর ফলে সেখানে আত্মহত্যার চেষ্টা বা দুর্ঘটনার ঘটনা কার্যত নেই। তা হলে সেই মডেল পুরনো লাইনে প্রয়োগ করা যাবে না কেন— এই প্রশ্ন উঠছেই।

পরীক্ষামূলক ভাবে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ধারে রেলিং বসানো হয়েছিল। কিন্তু নিত্যযাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলছে, তা কার্যকর সমাধান নয়। ভিড়ের সময় ওই রেলিং কোনও বাস্তব সুরক্ষা দিতে পারে না।

সব মিলিয়ে, মালা রায়ের করা তিনটি মূল প্রশ্ন— কবে দরজা বসবে, কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, আর কতদিনে কাজ শেষ হবে— এই তিনটির কোনও স্পষ্ট উত্তরই মেলেনি। আর তাতেই বাড়ছে উদ্বেগ। কারণ, প্রতিটি দিন দেরি মানেই যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি আরও একটু বেড়ে যাওয়া। কলকাতা মেট্রোর মতো ব্যস্ত পরিবহণ ব্যবস্থায় যাত্রী সুরক্ষা যে শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, তা হয়তো আবারও মনে করিয়ে দিল এই নীরব জবাব।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *