ভোটের মুখে শেষ বাজেট: লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে ডিএ— মমতার অন্তর্বর্তী বাজেটে কী চমক থাকছে?

লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে ডিএ! দুয়ারে বিধানসভা ভোট। তার আগেই বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস) পেশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই এই বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক…

February 5, 2026
1 min read

লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে ডিএ!

দুয়ারে বিধানসভা ভোট। তার আগেই বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস) পেশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকার। স্বাভাবিক ভাবেই এই বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে। ভোটের আগে শেষ বাজেটে সরকার কোন কোন ক্ষেত্রে ‘চমক’ রাখে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প ছিল তৃণমূলের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি কার্যত রূপায়ণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তীতে লোকসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থও বাড়ানো হয়। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পান মাসে ১,২০০ টাকা।

ভোটের আগে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েই জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে লক্ষ্মীর ভান্ডারে নতুন করে অর্থবৃদ্ধি করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। এ বার সেই অঙ্ক আরও বাড়ে কি না, সেদিকেই নজর সকলের। তৃণমূল শিবিরে তো রীতিমতো শোনা যাচ্ছে, “লক্ষ্মীবারে দিদি ঘরে ঘরে লক্ষ্মী পৌঁছে দেবেন।”

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। রাজ্য বনাম কেন্দ্রীয় হারের ফারাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে কর্মচারী মহলে। বৃহস্পতিবারই এই সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টে। ফলে বাজেটে ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন কর্মচারীরা।

নবান্ন সূত্রে খবর, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকেই এ বার বাজেটের কেন্দ্রে রাখতে চাইছে সরকার। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দেওয়া হতে পারে। সার্বিক বাজেট বরাদ্দ ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক মহলে। আশাকর্মীদের বেতনবৃদ্ধি কিংবা অস্থায়ী কর্মীদের জন্য নতুন সুবিধার ঘোষণাও আসতে পারে। সিভিক ভলান্টিয়ারদের ক্ষেত্রেও কোনও বার্তা আসে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী বাজেটের বদলে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছিলেন, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে। সে বার বাজেট পেশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। তবে এ বার সেই সম্ভাবনা নেই বলেই নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অবশ্য দাবি, অন্তর্বর্তী বাজেটে যা-ই ঘোষণা হোক, তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী কারণে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলে সরকার কোনও প্রতিশ্রুতি রূপায়ণ করতে পারবে না। পাল্টা তৃণমূলের যুক্তি, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এখনও কিছুটা সময় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই শেষ বাজেট রাজনৈতিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। বৃহস্পতিবারের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা বাংলা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *