প্লেব্যাকের বাইরে নতুন পথের খোঁজে অরিজিৎ!
নতুন বছরের শুভেচ্ছার সঙ্গে অরিজিৎ সিংহের একটি পোস্টই বদলে দিল সব হিসেব। সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দিলেন—আর প্লেব্যাক করবেন না। মুহূর্তে মন খারাপ অনুরাগীদের, সঙ্গে শুরু জল্পনা—তা হলে অরিজিতের পরের অধ্যায় কোন দিকে? গায়ক থেকে সঙ্গীতস্রষ্টা, না কি ক্যামেরার আড়ালে পরিচালক? আশ্চর্য নয়, এই প্রশ্নের ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন বহু বছর আগেই—এক বাঙালি পরিচালকের কাছে।
২০০৫ সালে একটি গানের রিয়্যালিটি শো-তে অংশ নিয়ে যাত্রা শুরু। তখন বয়স মাত্র ১৮। ট্রফি না জিতলেও, হার মানেননি। পরের ২১ বছরে অরিজিৎ হয়ে ওঠেন শুধু বলিউড নয়, বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের প্রিয় কণ্ঠ। সাফল্যের শিখরে পৌঁছে হঠাৎই এমন সিদ্ধান্ত—স্বাভাবিকভাবেই অবাক করেছে সবাইকে। কিন্তু যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়।
২০১২ সালে অনুরাগ বসুর ‘বরফি!’ ছবিতে অরিজিতের গান যেমন জনপ্রিয় হয়েছিল, তেমনই ওই ছবির সময়েই নাকি নিজের মনের কথা খুলে বলেছিলেন তিনি। অনুরাগ বসু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ছবির শুটিং চলাকালীন অরিজিৎ সহ-পরিচালক হতে চেয়েছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হলেও অনুরাগ বুঝে গিয়েছিলেন—এই গায়কের কৌতূহল শুধু মাইকের মধ্যেই আটকে নেই, তাঁর টান ক্যামেরার পেছনের দুনিয়ায়।
প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণার পর তাই অনুরাগের বিস্ময় নেই। বরং তাঁর দাবি, অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত বহুদিনের ভিতরকার ইচ্ছারই প্রকাশ। গান গাওয়ার পাশাপাশি নিজের মতো করে গল্প বলার আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর।
বাস্তবেও সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছিলেন অরিজিৎ। ২০১৯ সালে তিনি নিজেই পরিচালনা করেন ছবি ‘সা’, যা বিদেশের একটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। বাণিজ্যিক হিন্দি ছবির দুনিয়ায় বড় আকারে প্রবেশ না করলেও, নিজের ছন্দে কাজ করে যাওয়াই বরাবরের মতো তাঁর পছন্দ।
এখন শোনা যাচ্ছে, প্লেব্যাক থেকে বিরতি নিয়ে তিনি পাকাপাকি ভাবে পরিচালনার দিকেই মন দিচ্ছেন। জঙ্গলকে কেন্দ্র করে একটি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ চলছে, যেখানে তাঁকে সহযোগিতা করছেন তাঁর স্ত্রী কোয়েল সিংহ। আরও দু’টি ছবির পরিকল্পনাও নাকি রয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। গুঞ্জন আছে, নতুন ছবিতে দেখা যেতে পারে এক তারকা-কন্যাকেও—নওয়াজ়উদ্দিন সিদ্দীকীর মেয়ে শোরা সিদ্দীকী।
অরিজিতের সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু ক্লান্তি নয়, রয়েছে শিল্পী হিসেবে আত্মসমালোচনা। আগের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নিজের নাম শুনলে বিরক্তি আসে, নিজের গানও একসময় শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ন্যায্য পারিশ্রমিক ও শিল্পীদের অবস্থান নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
নিজের পোস্টেই অরিজিৎ লিখেছেন, একঘেয়েমি তাঁকে দ্রুত গ্রাস করে। তাই নতুন সুর, নতুন গল্প, নতুন মানুষ—এই খোঁজেই তিনি বেরোচ্ছেন। প্লেব্যাক ছেড়ে অরিজিতের যাত্রা যে এখানেই শেষ নয়, বরং অন্যভাবে শুরু—এটা এখন স্পষ্ট।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা