২১ দিনেই সেনসেক্সে ৪ হাজার পয়েন্ট ধস, আকাশছোঁয়া সোনা-রুপো— বাজারে কেন এমন উল্টো ছবি? কবে ফিরবে স্বস্তি?

২১ দিনেই সেনসেক্সে ৪ হাজার পয়েন্ট ধস! নতুন বছর শুরু হতে না হতেই বিনিয়োগকারীদের কপালে ভাঁজ। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে সেনসেক্স প্রায় ৪,০০০ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ায় রীতিমতো রক্তাক্ত ভারতের শেয়ার…

January 22, 2026
1 min read

২১ দিনেই সেনসেক্সে ৪ হাজার পয়েন্ট ধস!

নতুন বছর শুরু হতে না হতেই বিনিয়োগকারীদের কপালে ভাঁজ। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে সেনসেক্স প্রায় ৪,০০০ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ায় রীতিমতো রক্তাক্ত ভারতের শেয়ার বাজার। অন্য দিকে ঠিক উল্টো ছবি সোনা-রুপোয়— প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড ছুঁয়ে চলেছে এই দুই মূল্যবান ধাতু। প্রশ্ন একটাই— এত বড় বৈপরীত্য কেন? আর কবে ঘুরে দাঁড়াবে বাজার?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতার মূল কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির টানাপড়েন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড দখল ঘিরে উত্তেজনা, ভেনেজুয়েলা ইস্যু— সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা চরমে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মতো উন্নয়নশীল বাজারে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আর একটি বড় কারণ— বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) লাগাতার শেয়ার বিক্রি। ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি লিমিটেডের তথ্য বলছে, জানুয়ারির প্রথম ১৬ দিনেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২২,৫০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন ভারতীয় বাজার থেকে। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পুঁজি বাজার ছেড়েছে।

কেন এই হঠাৎ মুখ ফেরানো? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বন্ড ইল্ড বেড়েছে, ডলারের দাম চড়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে টাকা সরিয়ে ডলার ও মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ করাকেই নিরাপদ মনে করছেন বিদেশি সংস্থাগুলি। তার উপর ভারতের উপর সম্ভাব্য শুল্ক চাপের আশঙ্কাও পরিস্থিতি জটিল করেছে।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ ঝুঁকছে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে— সোনা ও রুপো। শেয়ার বিক্রি করে সেই টাকাই ঢালা হচ্ছে ধাতুতে। ফল? সোনার দাম একের পর এক নতুন উচ্চতায়, রুপো তো কার্যত রকেট গতিতে ছুটছে। ইতিমধ্যেই প্রতি কেজি রুপোর দাম করছাড়াই তিন লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার ঝোঁক। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-সহ বহু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনেছে। ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতেই এই কৌশল— আর তার জেরেই সোনার দর ঊর্ধ্বমুখী।

তবে প্রশ্ন, এই বাজারপতন কি দীর্ঘস্থায়ী? আর্থিক সংস্থা স্মিফস লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কুণাল আচার্যর মতে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাঁর কথায়, “সূচক অনেকটা উঁচুতে ছিল। এই সংশোধন স্বাভাবিক এবং বাজারের জন্য স্বাস্থ্যকর। আগামী ১০–১৫ দিনের মধ্যে সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”

তিনি মনে করছেন, ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কিং ও ফিনান্স, বিরল খনিজ সংস্থার স্টক ভাল পারফর্ম করতে পারে। তবে মার্কিন বাজারের উপর নির্ভরশীল ফার্মা স্টকে চাপ থাকতে পারে। রুপোর ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক— অতীতে দেখা গিয়েছে, হঠাৎ দাম বাড়ার পর বড় পতনও হয়েছে। তাই স্বল্পমেয়াদে লাভের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, আগামী এক থেকে দেড় বছর বাজারে অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে ভারতের অর্থনীতির ভিত মজবুত। সুদের হার কমলে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে, শেয়ার বাজারে আবারও ফিরতে পারে স্বস্তির রোদ্দুর।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *