আইআইএম জীবনে কেমন ছিলেন নব্যা নন্দ?
অমিতাভ বচ্চনের নাতনি—এই পরিচয়ই যেখানে অনেককে অনায়াসে রুপোলি পর্দার দিকে টেনে নেয়, সেখানে নব্যা নবেলী নন্দ বেছে নিয়েছেন একেবারে ভিন্ন পথ। অভিনয় নয়, ব্যবসা—এই সিদ্ধান্তে তিনি ছোটবেলা থেকেই স্থির। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি পা রেখেছিলেন আইআইএম আহমদাবাদের ক্লাসরুমে। সেখান থেকেই এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন নব্যা।
সম্প্রতি নব্যা নিজের আইআইএম-জীবনের কিছু স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। সেই ছবিগুলিতে কোথাও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের পাঁচিলে বসে আড্ডায় মশগুল, কোথাও আবার ক্লাসরুমে মন দিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। আবার কোনও ফ্রেমে ধরা পড়েছে তাঁর সাধারণ খাবারের থালা—রুটি, ডাল, ভাত, নানা রকম সব্জি আর লস্যি। কোনও বিলাসিতা নয়, একেবারে ছাত্রজীবনের স্বাভাবিক দিনযাপন।
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলিই নব্যার কাছে সবচেয়ে দামী। তাই তো তিনি লিখেছেন, “সবচেয়ে হাসিখুশি মানুষদের সঙ্গে সবচেয়ে সুখের সময়।” তাঁর চোখে আইআইএম মানে শুধু ডিগ্রি নয়, বন্ধুত্ব, গল্প, হাসি আর নিজের মতো করে বড় হয়ে ওঠার জায়গা।
অনেকে এখনও প্রশ্ন করেন—বচ্চন পরিবারের মেয়ে হয়ে কেন অভিনয়ে এলেন না নব্যা? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি আগেও দিয়েছেন স্পষ্টভাবে। এক সাক্ষাৎকারে নব্যা বলেছিলেন, “অভিনয়ে আমার আগ্রহ নেই। যদিও যে কোনও হিন্দি গানের নাচের স্টেপ আমার মুখস্থ।” অর্থাৎ সিনেমা তাঁর জীবনে আছে, কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে নায়িকা হওয়ার আকর্ষণ নেই।
শৈশব থেকেই তাঁর ঝোঁক ছিল ব্যবসার দিকে। নব্যার কথায়, “বাবা কাজ থেকে ফিরলেই আমি অফিসের গল্প শুনতে চাইতাম। কী হল, কী সিদ্ধান্ত নিলেন—এই সব জানতেই বেশি ভালো লাগত। অভিনয় পেশাটার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে, কিন্তু আমি কখনও অভিনেত্রী হতে চাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “যে কাজে আমি ১০০ শতাংশ আগ্রহী নই, সেই কাজ করা উচিত নয়—এই শিক্ষাই বাবা-মা আমাকে দিয়েছেন। আমি সেটাই মেনে চলছি।”
এই মানসিকতাই নব্যাকে আলাদা করে তোলে। গ্ল্যামার, আলো, ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে থেকে তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের পথ। আইআইএম-এর ক্লাসরুম, বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগা পড়াশোনা, ক্যান্টিনের খাবার আর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন—এই নিয়েই গড়ে উঠেছে তাঁর ছাত্রজীবন।
আজ নব্যা একজন সফল উদ্যোগপতি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। বচ্চন পরিবারের পরিচয় তাঁর সঙ্গে থাকলেও, নিজের পরিচয় তিনি গড়ে তুলতে চান নিজস্ব পরিশ্রম আর সিদ্ধান্তে।
নব্যার গল্প তাই অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই অনুপ্রেরণা। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন—পারিবারিক পরিচয় যাই হোক না কেন, জীবনের রাস্তা বেছে নেওয়ার অধিকার শেষ পর্যন্ত নিজেরই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা