হিমবাহ গলতেই জেগে উঠছে কোটি বছরের ‘ক্ষতিকর জিন’!
হিমবাহ গলছে—এই খবর নতুন নয়। আমরা জানি, এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে, উপকূলীয় শহর বিপদের মুখে পড়ছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার জানাচ্ছেন, বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসছে আরও ভয়ংকর এক সত্য—কোটি কোটি বছর ধরে হিমবাহে জমে থাকা ক্ষতিকর জিন এখন নদী, হ্রদ আর সমুদ্রের জলে মিশছে। আর সেখানেই লুকিয়ে ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চিনের একদল বিজ্ঞানীর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁদের দাবি, হিমবাহের বরফে বন্দি রয়েছে এমন কিছু জিন, যেগুলি ব্যাকটেরিয়াকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী করে তোলে। সহজ কথায়, এই জিন ব্যাকটেরিয়াকে ওষুধের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী করে তোলে। আগে এই জিনগুলি বরফে বন্দি থাকায় ক্ষতি করতে পারত না। কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ গলতে শুরু করায়, সেই জিন এখন মুক্ত হয়ে জলে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জিনগুলি নতুন নয়। মানুষের তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক আসার বহু আগেই, প্রকৃতির মধ্যেই জীবাণুদের প্রতিযোগিতায় এমন প্রতিরোধী জিন তৈরি হয়েছে। হিমবাহের চরম ঠান্ডা সেই অণুজীব ও তাদের ডিএনএ-কে হাজার হাজার, এমনকি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সংরক্ষণ করে রেখেছে। ফলে হিমবাহ আসলে শুধু জমাট বরফ নয়—এ এক বিশাল জিনগত ভাণ্ডার।
গবেষণার জন্য আন্টার্কটিকা, আর্কটিক এবং তিব্বতীয় মালভূমির হিমবাহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, হিমবাহপুষ্ট নদী ও হ্রদের জলে এই প্রতিরোধী জিনের উপস্থিতি স্পষ্ট। অথচ এই নদী-হ্রদই বহু মানুষের পানীয় জল ও দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান উৎস। অর্থাৎ, এই জিন সরাসরি মানুষের জীবনচক্রে ঢুকে পড়ছে।
গবেষক গুয়ান্নান মাও বলছেন, “হিমবাহগুলিকে আমরা এতদিন বিচ্ছিন্ন, নিষ্ক্রিয় বরফের স্তূপ বলে ভেবেছি। কিন্তু আসলে এগুলি জিনগত সংরক্ষণাগার, যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকে লুকিয়ে রেখেছে।”
সমস্যা এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জীবাণুদের মধ্যে জিন ছড়াতে প্রজননের প্রয়োজনও হয় না। উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই এক ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটিতে এই প্রতিরোধী জিন ছড়িয়ে পড়তে পারে। উপরন্তু, ভাইরাসের সঙ্গে এই জিনের সহাবস্থান হলে সংক্রমণ আরও জটিল ও চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
এর মানে কী দাঁড়াল? ভবিষ্যতে জলবাহিত রোগ বাড়তে পারে, আর সেই রোগের চিকিৎসায় প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক অনেক সময়েই কাজ নাও করতে পারে।
তাই বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, হিমবাহ গলনকে আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও এক নীরব কিন্তু গভীর সংকেত। বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে শুধু জল নয়—মুক্তি পাচ্ছে কোটি বছরের ঘুমন্ত বিপদও।
বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াই যে কেবল প্রকৃতি বাঁচানোর প্রশ্ন নয়, মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন—এই গবেষণা যেন আবারও সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা