লালগ্রহে কি সত্যিই ফিরবে প্রাণ?
একসময় যা ছিল কল্পবিজ্ঞান, আজ তা ধীরে ধীরে গবেষণাগারের আলোয় বাস্তবের রঙ পাচ্ছে। অনুর্বর, শুষ্ক মঙ্গলে কি একদিন সবুজ জন্মাবে? মানুষ কি সেখানে বসতি গড়তে পারবে? বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে— সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আশার আলো দেখাচ্ছে পৃথিবীরই দু’টি শক্তিশালী অণুজীব।
নাসা-সহ বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই ভাবছেন, কী ভাবে মঙ্গলকে মানুষের বাসের উপযোগী করা যায়। তাঁদের একাংশের মতে, কিছু বিশেষ অণুজীব এমন ক্ষমতা রাখে, যা মঙ্গলের পরিবেশে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এই অণুজীবগুলি অক্সিজেন উৎপাদন করতে পারে এবং একই সঙ্গে মঙ্গলের ধুলোমাখা মাটিকে ধীরে ধীরে শক্ত, কংক্রিটের মতো রূপ দিতে পারে। যদি তা সম্ভব হয়, তা হলে মঙ্গলে ঘর বানানোর জন্য পৃথিবী থেকে ইট-পাথর টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়বে না।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— এখন মঙ্গল কেন বাসযোগ্য নয়? আজকের মঙ্গল কার্যত এক বরফঠান্ডা মরুভূমি। তীব্র শীত, পাতলা বায়ুমণ্ডল আর জলহীন ভূমি সেখানে মানুষের বেঁচে থাকার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। অথচ গবেষণা বলছে, বহু কোটি বছর আগে মঙ্গল এমন ছিল না। তখন সেখানে নদী ছিল, উষ্ণতা ছিল, এমনকি জীবনের সম্ভাবনাও ছিল বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। সেই পুরনো মঙ্গলকেই আংশিক ভাবে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এক দিনে বা এক দশকে এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর জন্য লাগতে পারে শতাব্দীর পর শতাব্দী। শুরুতে হয়তো আন্টার্কটিকার মতোই ছোট ছোট গবেষণা বসতি গড়ে উঠবে— তাও মাটির নীচে। সেখানে মানুষকে থাকতে হবে কৃত্রিম লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের উপর নির্ভর করে, ঠিক যেমন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকতে হয়।
ভবিষ্যতের মঙ্গলবাসীদের শুধু থাকার জায়গা হলেই চলবে না। তাঁদের শিখতে হবে কী ভাবে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে খাবার ফলানো যায়, অক্সিজেন তৈরি করা যায়। বিজ্ঞানীদের কল্পনায় ধীরে ধীরে মঙ্গলের বুকে গড়ে উঠছে কাচের গম্বুজে ঢাকা ছোট শহর— যেখানে এক সঙ্গে বসবাস, চাষাবাদ আর জীবন চলবে।
তবে এই সব কিছুর আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হল মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ঘন করা। তা না হলে কোনও দিনই মানুষ খোলা আকাশের নীচে মঙ্গলে হাঁটতে পারবে না। সেই পথ দীর্ঘ, কঠিন— কিন্তু অসম্ভব নয়। আর সেই দীর্ঘ যাত্রার প্রথম ধাপে হয়তো নেতৃত্ব দেবে এই ক্ষুদ্র অণুজীবরাই।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি