স্মৃতির দরজায় নক, চার দশক পর অতীতকে ছুঁলেন শত্রুঘ্ন— রীনার জন্মদিনে আবেগী বার্তা

চার দশক পর অতীতকে ছুঁলেন শত্রুঘ্ন! সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্কই ঝাপসা হয়ে যায়। কেউ হারিয়ে যায় স্মৃতির আড়ালে, কেউ থেকে যায় গল্প হয়ে। তবু কখনও কখনও, বহু বছর পরেও অতীত…

January 9, 2026
1 min read

চার দশক পর অতীতকে ছুঁলেন শত্রুঘ্ন!

সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্কই ঝাপসা হয়ে যায়। কেউ হারিয়ে যায় স্মৃতির আড়ালে, কেউ থেকে যায় গল্প হয়ে। তবু কখনও কখনও, বহু বছর পরেও অতীত হঠাৎ করেই ফিরে আসে— ঠিক যেমনটা হল এবার। প্রায় ৪৩ বছর পরে প্রাক্তন প্রেমিকা রীনা রায়-এর জন্মদিনে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠালেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিন্‌হা।

বলিউডের এক সময়ের আলোচিত জুটি ছিলেন শত্রুঘ্ন ও রীনা। ১৯৭৬ সালে ‘কালীচরণ’ ছবিতে প্রথম একসঙ্গে কাজ করার সূত্রেই তাঁদের আলাপ। পর্দার রসায়ন খুব দ্রুত বাস্তবেও ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। ‘মিলাপ’, ‘সংগ্রাম’, ‘চোর হো তো অ্যায়সা’-সহ একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের গুঞ্জন বলছে, টানা ছয়-সাত বছর তাঁদের সম্পর্ক ছিল গভীর।

তবে সেই সম্পর্কের পথে ছিল জটিলতা। শত্রুঘ্নের জীবনে তখন ছিলেন বর্তমান স্ত্রী পুনম সিন্‌হা। এক সময় নাকি রীনার সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েছিলেন পুনম, এমনকি হাতেনাতেও ধরেছিলেন হবু স্বামীকে। পরবর্তী কালে এক সাক্ষাৎকারে পুনম নিজেই জানিয়েছিলেন, সেই সময় তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত্রুঘ্নই ফিরে যান পুনমের কাছে, এবং ১৯৮০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।

এর পর দীর্ঘ সময় আর কোনও যোগাযোগ ছিল না শত্রুঘ্ন ও রীনার। কিন্তু বয়স আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কের রং বদলায়। জন্মদিনে রীনার উদ্দেশে কয়েকটি পুরনো ছবি ভাগ করে নিয়ে শত্রুঘ্ন লিখেছেন—
“একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু, সর্বকালের সেরা অভিনেত্রীদের একজন, চিরকাল মনোমুগ্ধকর তারকা, অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিনী মানুষটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।”

এই লেখায় প্রেমের দাবি নেই, আছে সম্মান, কৃতজ্ঞতা আর স্মৃতির ছোঁয়া। যেন বহু দিনের দূরত্বের পরেও এক ধরনের মানবিক সংযোগ রয়ে গেছে।

২০১৬ সালে জয়পুর সাহিত্য উৎসবে শত্রুঘ্ন নিজেই স্বীকার করেছিলেন, এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং সেই সময় পুনমের কাছে ধরা পড়েছিলেন। অকপটে নিজের দুর্বলতার কথা বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। সেই খোলামেলা স্বীকারোক্তির পর থেকেই অনেকের চোখে শত্রুঘ্নের এই বার্তা আরও মানবিক হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, এই শুভেচ্ছাবার্তা কোনও পুরনো সম্পর্ক জাগিয়ে তোলার নয়, বরং অতীতকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করার এক পরিণত মুহূর্ত। চার দশক পরেও যে স্মৃতিরা পুরোপুরি মুছে যায় না— শত্রুঘ্ন ও রীনার গল্প তারই প্রমাণ।

ভিন্‌রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *