অনলাইন গেমের বন্ধুত্ব থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধ!
একটি অনলাইন গেম—সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল পরিচয়। ধীরে ধীরে সেই ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব গড়ায় ঘনিষ্ঠতায়। আর সেই সম্পর্কের টানেই শেষ পর্যন্ত এক যুবক জড়িয়ে পড়েন ভয়ঙ্কর অপরাধে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মেরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেপথ্যে ছিল অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে আলাপ হওয়া এক তরুণীর প্ররোচনা।
ঘটনাটি পুরুলিয়ার। গত ২ অক্টোবর রাত ১১টা নাগাদ সিমুলিয়া-চাকরা বাইপাস দিয়ে বাইকে করে বেকুড়ির দিকে যাচ্ছিলেন হাতিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাপি সরদার ওরফে টোটন। সোনাইজুড়ি আন্ডারপাসের কাছে কয়েক জন দুষ্কৃতী আচমকা তাঁর পথ আটকে দেয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে পালাতে পারলেও ছিনতাইকারীরা তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে চম্পট দেয়। পরের দিন টামনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাপি।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে নির্মল গোড়াইন (২১) নামে এক যুবককে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল এবং অপরাধে ব্যবহৃত বাইক। জিজ্ঞাসাবাদে নির্মল জানান, পরিচয় গোপন করতে বাইকের নম্বর প্লেট খুলে ফেলা হয়েছিল। পাশাপাশি, তিনি স্বীকার করেন—এই অপরাধে জড়ানোর নেপথ্যে রয়েছেন এক তরুণী, যাঁর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল একটি জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে অনলাইনে গেম খেলতে গিয়েই নির্মলের সঙ্গে পরিচয় হয় তিথি বিশ্বাস (২০)-এর। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। অভিযোগ, একসঙ্গে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখিয়ে নির্মলকে অপরাধমূলক কাজের দিকে ঠেলে দেন তিথি। শুধু প্ররোচনাই নয়, অপরাধের আগের রাতেও তিনি পুরুলিয়ায় এসে পুরো ঘটনার তদারকি করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
ছিনতাইয়ের পর দু’জনে একসঙ্গেই বাইক নিয়ে এলাকা ছাড়েন। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ৬ জানুয়ারি নদিয়া জেলার ধানতলা থানার অন্তর্গত আড়ংঘাটা এলাকা থেকে তিথিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অনলাইন গেমিংয়ের দুনিয়া যে কখনও কখনও বাস্তব জীবনের ভয়ঙ্কর ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি