ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় ধাক্কা!
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রথম পর্ব শেষ হতেই উত্তরপ্রদেশে উঠে এল চমকপ্রদ এবং তাৎপর্যপূর্ণ ছবি। তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পর অবশেষে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দেশের বৃহত্তম রাজ্যটিতে এক ধাক্কায় বাদ পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম। সংখ্যার বিচারে যা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ। কিন্তু এনুমারেশন ফর্ম জমা ও যাচাই পর্ব শেষে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় জায়গা পেয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ নাম। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ১৮.৭ শতাংশ নাম এই প্রথম ধাপেই ছাঁটাই হয়ে গিয়েছে। এত বড় পরিসরে নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রভনীত রিনওয়া জানিয়েছেন, এই বাদ পড়া ভোটারদের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাঁর মতে, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নামগুলির মধ্যে প্রায় ৪৬ লক্ষ ২৩ হাজার মৃত ভোটারের নাম ছিল। এ ছাড়া দু’টি জায়গায় নাম থাকা ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার। সবচেয়ে বড় অংশটি তৈরি করেছে স্থানান্তরিত বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ভোটাররা— যাঁদের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১৭ লক্ষ। এই সমস্ত নামই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই প্রক্রিয়া শেষ নয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, সেই ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য শুনানিতে হাজির হতে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ৬ মার্চ উত্তরপ্রদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা।
এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা টানছে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়াও। বাংলায় খসড়া তালিকায় প্রায় ৭.৬ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, যা সংখ্যায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজারের কিছু বেশি। সেই তুলনায় উত্তরপ্রদেশে ছাঁটাইয়ের পরিমাণ অনেকটাই বেশি, যা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।
বিজেপির অন্দরের খবর বলছে, এত বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা আঁচ করেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেই ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে। দলীয় সূত্রে এমনও ইঙ্গিত মিলেছে, আদিত্যনাথ মনে করছেন তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে চাপে ফেলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা।
এই আবহেই সোমবার দিল্লিতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিপুল কাটছাঁট যে আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে, তা এখনই স্পষ্ট।