ফের কাছাকাছি বিএনপি–জামাত?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও জোট-রাজনীতির গুঞ্জন। এক সময়ের বিতর্কিত হলেও পরিচিত রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফের স্পষ্ট করে জানাল— তারা বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে আগ্রহী। শুধু তাই নয়, জামাতের দাবি অনুযায়ী, এই সহযোগিতার ভাবনায় নাকি ইতিবাচক সাড়া মিলেছে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের কাছ থেকেও।
বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশানে বিএনপি দফতরে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সমবেদনা জানাতেই মূলত এই সাক্ষাৎ— এমনটাই জানানো হয়। তবে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শফিকুর যে মন্তব্য করেন, তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শফিকুর বলেন, “আমরা অতীতেও বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে মিলেমিশে কাজ করা সম্ভব।” তাঁর কথায়, আগামী পাঁচ বছর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি “সুন্দর পরিবেশ” ফিরিয়ে আনার কথা মাথায় রেখেই এই সহযোগিতার ভাবনা। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগেই খোলা মনে আলোচনা করে জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ভোটের আগে সরাসরি জোট না হলেও, নির্বাচনের পর বিএনপি–জামাতের সমঝোতার পথ খোলা রাখছে জামাত। এর আগেও সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিকুর বলেছিলেন, অন্তত পাঁচ বছরের স্থিতিশীল সরকার চাই জামাত। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হলে, একসঙ্গে সরকার চালানোর কথাও ভাবা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, জামাত দীর্ঘদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী কট্টরপন্থী দল হিসেবে পরিচিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে বিএনপির শরিক ছিল তারা। পরে সেই জোট ভেঙে যায়। হাসিনা সরকারের আমলে জামাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়— ভোটে লড়ার অধিকার ও নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয়, এমনকি ২০২৪ সালে দলটিকে নিষিদ্ধও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে গত বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পরিস্থিতি বদলায়। বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবেই জামাতকে দেখা হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও হবে। এই নির্বাচনে জামাত ইতিমধ্যেই আটটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছাত্র-যুব নেতাদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিও। একাধিক প্রাক্-নির্বাচনী সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, নির্বাচনে বিএনপি প্রথম এবং জামাত দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে জামাত বিরোধী আসনে না বসে বিএনপির সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে, তারেক–শফিকুর বৈঠকের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে— আগামী দিনে কি আবারও বিএনপি–জামাতের পুরনো সমীকরণ ফিরতে চলেছে? উত্তর দেবে ফেব্রুয়ারির ভোটের ফল।