নাম এক, রাজনীতি আলাদা! আদালতে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ শুনে বিচারকের মজার বিস্ময়

আদালতে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ শুনে বিচারকের মজার বিস্ময়! নাম মিঠুন। পদবি চক্রবর্তী। রাজনীতি করেন। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু দল— সিপিএম! এই জায়গাতেই হুগলির এক নিম্ন আদালতে মুহূর্তের জন্য থমকে…

December 26, 2025
1 min read

আদালতে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ শুনে বিচারকের মজার বিস্ময়!

নাম মিঠুন। পদবি চক্রবর্তী। রাজনীতি করেন। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু দল— সিপিএম! এই জায়গাতেই হুগলির এক নিম্ন আদালতে মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল শুনানি। নামটা কানে যেতেই বিচারকের মুখে স্বতঃস্ফূর্ত প্রশ্ন,
“আপনি রাম থেকে আবার বাম হয়ে গেলেন কবে?”
আদালতকক্ষে তখন হালকা হাসির রোল।

ঘটনাটি সাম্প্রতিক। হুগলি জেলার একটি রাজনৈতিক সংঘাতের মামলায় আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন একাধিক সিপিএম নেতা। কাঠগড়ার পাশে দাঁড়িয়ে একে একে নাম ডাকা হচ্ছিল। রাজ্য স্তরের নেতা থেকে শুরু করে জেলা কমিটির সদস্য— সবাই হাত তুলে হাজিরা দিচ্ছিলেন। তালিকার শেষদিকে যখন ডাকা হল ‘মিঠুন চক্রবর্তী’, তখনই তৈরি হল বিভ্রান্তি।

কারণ বাংলার রাজনীতিতে এবং জনমানসে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ নামটি শুনলেই প্রথমে মনে পড়ে যান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা Mithun Chakraborty। সেই পরিচিত নাম আদালতে উচ্চারিত হতেই বিচারক রসিকতা করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন— বিজেপি ছেড়ে সিপিএমে এলেন কবে?

তবে এই মিঠুন বিনয়ের সঙ্গেই জানিয়ে দেন, নাম ও পদবি এক হলেও তিনি বরাবরই সিপিএম করেন। অভিনেতা মিঠুনের সঙ্গে তাঁর কোনও রাজনৈতিক যাত্রাপথের মিল নেই। ভুলটা ভাঙতেই ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে শুনানি।

এই মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের অগস্টে। হুগলির একটি ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী দলগুলির সংঘর্ষে সক্রিয় ছিল সিপিএমও। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। গত সপ্তাহে সেই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আদালতে যান সিপিএম নেতারা। শেষ পর্যন্ত আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছে।

আদালতের ওই ‘সমনাম বিভ্রাট’ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সিপিএম নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। যোগাযোগ করা হলে তিনি শুধু বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, এই বিড়ম্বনা নতুন নয়। যত দিন অভিনেতা মিঠুন বাম নেতা সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তত দিন সমস্যা হয়নি। কিন্তু তার পরে অভিনেতা মিঠুনের তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যাওয়া— সব মিলিয়ে নামটা এখন আরও বেশি ‘সংবেদনশীল’!

হুগলির শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা এই মিঠুন চক্রবর্তী স্থানীয় বাম রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। মোটরবাইক চালিয়ে এলাকায় ঘোরেন, পেশায় পর্যটক সমন্বয়ক। কাজের সূত্রে পাহাড়-সমুদ্র-বরফ— সব জায়গাতেই যাতায়াত। সেই সব মুহূর্তের ভিডিও কখনও আবার সমাজমাধ্যমে রিল হিসেবেও দেখা যায়। আবার দল ডাক দিলে ধর্মঘটের দিন কারখানার গেটেও হাজির থাকেন।

মজার কাকতাল, তারকা মিঠুনের ছবি মুক্তির আবহে এই মিঠুনের জীবনেও নতুন অধ্যায় আসছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। আপাতত মেঘালয়ে পর্যটকদের সঙ্গে সফরে ব্যস্ত। ফিরে এসেই শুরু হবে বিয়ের তোড়জোড়।

শেক্সপিয়র বলেছিলেন, “নামে কী আসে যায়!” কিন্তু একই নাম হলে যে কত রকম পরিস্থিতির জন্ম হতে পারে, হুগলির আদালতের এই ঘটনা তারই হাস্যকর অথচ মানবিক উদাহরণ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *