দীপিকার পরিপাটি ভ্যান আর শাহরুখের ভ্যানে লুকোনো জিমের গল্প!
শুটিং মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেটে থাকা। সেই দীর্ঘ সময়টা তারকারা কাটান তাঁদের ভ্যানিটি ভ্যানে। তাই ভ্যান শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়, অনেকের কাছে সেটাই হয়ে ওঠে ছোট্ট একটা চলমান ঘর। সেই কারণেই প্রিয় তারকাদের ভ্যানের অন্দরসজ্জা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল চিরকাল। সম্প্রতি অন্দরসজ্জা শিল্পী বিনীতা চৈতন্য জানালেন, ভিতরে ভিতরে ঠিক কেমন দুই প্রথম সারির তারকার ভ্যানিটি ভ্যান।
বিনীতা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন দীপিকা পাড়ুকোন-এর সঙ্গে। অভিনেত্রীর বাড়ি, অফিস থেকে শুরু করে ভ্যান— সব কিছুর অন্দরসজ্জার দায়িত্বই তাঁর কাঁধে। বিনীতা জানালেন, দীপিকার প্রথম ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে অফিস— সবই তাঁর নকশায় সাজানো। স্বাভাবিক ভাবেই ভ্যানের ক্ষেত্রেও দীপিকার পছন্দ-অপছন্দ তিনি খুব ভাল করেই বোঝেন।
দীপিকার ভ্যান সম্পর্কে বিনীতার অভিজ্ঞতা বেশ স্পষ্ট— “ও খুব জানে, ও ঠিক কী চায়। সব কিছু হতে হবে পরিপাটি, নিয়ম মেনে।” দীপিকার দু’টি ভ্যান রয়েছে। একটি ছোট ভ্যান, যেটা স্বল্প সময়ের শুটিংয়ে ব্যবহার হয়। আর একটি বড় ভ্যান, দীর্ঘক্ষণ শুটিংয়ের জন্য। বড় ভ্যানে থাকেন আরামদায়ক বসার জায়গা, কাজের জন্য আলাদা স্পেস, পোশাক বদলের ঘর— সব কিছুই খুব গোছানো ভাবে সাজানো। বিনীতার কথায়, দীপিকার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলাই মূল চাবিকাঠি।
এর ঠিক উল্টো অভিজ্ঞতা হয়েছিল বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান-এর ভ্যানিটি ভ্যানে ঢুকে। দীপিকার সঙ্গে একটি ছবির কাজের সময় বিনীতা সুযোগ পান শাহরুখের ভ্যান দেখার। সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, অন্দরসজ্জার ভাবনাটা একেবারেই আলাদা। দীপিকার ভ্যানে যেখানে নিখুঁত পরিপাটির ছাপ, সেখানে শাহরুখের ভ্যানে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু আরাম।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়— শাহরুখের ভ্যানের ভিতরে রয়েছে একটা ছোট্ট জিম! শুটিংয়ের ফাঁকে শরীরচর্চা করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা আছে সেখানে। বিনীতার কথায়, “শাহরুখ নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভ্যানটা যেন তাঁর কাজ আর শরীর— দু’টোরই যত্ন নিতে পারে।”
এই দুই ভ্যানের গল্প থেকেই স্পষ্ট, তারকাদের ব্যক্তিত্বের ছাপ পড়ে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরে। দীপিকার ভ্যান যেখানে নিখুঁত পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলার প্রতিচ্ছবি, শাহরুখের ভ্যান সেখানে চলমান আরামঘর— যেখানে কাজের ফাঁকে শরীর আর মন দু’টোকেই চাঙ্গা রাখা যায়।
ক্যামেরার সামনে তাঁরা যেমন আলাদা, ক্যামেরার আড়ালেও তাঁদের পছন্দ-স্বভাব ঠিক ততটাই ভিন্ন। আর সেই ভিন্নতার গল্পই লুকিয়ে থাকে এই চাকাচলা ছোট ছোট ঘরগুলোর ভেতরে।