রিলের দুনিয়া পেরিয়ে রুপোলি পর্দা: ‘পাপা কি পরি’ থেকে অভিনেত্রী প্রীতি সরকারের খোলা মনের কথা

রিলের দুনিয়া পেরিয়ে রুপোলি পর্দা! সমাজমাধ্যমে তিনি ‘পাপা কি পরি’ নামেই বেশি পরিচিত। কিন্তু প্রীতি সরকার নিজেকে শুধু নেটপ্রভাবী হিসেবেই দেখতে চান না। রিল, শর্ট ভিডিও আর মিনি সিরিজ়ের গণ্ডি…

December 19, 2025
1 min read

রিলের দুনিয়া পেরিয়ে রুপোলি পর্দা!

সমাজমাধ্যমে তিনি ‘পাপা কি পরি’ নামেই বেশি পরিচিত। কিন্তু প্রীতি সরকার নিজেকে শুধু নেটপ্রভাবী হিসেবেই দেখতে চান না। রিল, শর্ট ভিডিও আর মিনি সিরিজ়ের গণ্ডি পেরিয়ে এ বার বড়পর্দায় অভিনয়ের পথে তিনি। পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের আগামী ছবি ‘মন মানে না’-য় দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে। ফোনের ওপার থেকে হেসে জানালেন, পর্দায় মেয়েকে দেখার অপেক্ষায় মা–বাবা দু’জনেই ভীষণ উচ্ছ্বসিত।

নেটপ্রভাবী থেকে অভিনেত্রী হওয়া কি এখনও প্রশ্নের মুখে? প্রীতির অভিজ্ঞতা বলছে, জায়গাভেদে মানসিকতা আলাদা। তাঁর কথায়, “বলিউড বিষয়টা অনেকটাই মেনে নিয়েছে। কিন্তু টলিউডে এখনও অনেকের মানতে কষ্ট হয় যে আমরাও অভিনয় করতে পারি।” তিনি মনে করেন, যাঁরা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁরা সারাক্ষণ ক্যামেরার সামনেই থাকেন। ফলে ক্যামেরার ভয় বা অভিনয়ের অস্বস্তি তাঁদের হয় না। সে কারণেই এখন অনেক অভিনেতাকেও রিল বানাতে দেখা যাচ্ছে— আলোচনায় থাকার জন্য।

তবে প্রীতি নিজেও মানেন, সব কনটেন্ট ক্রিয়েটার যে অভিনেতা হবেন, এমনটা নয়। অভিনয়ের জন্য প্রয়োজন আলাদা প্রস্তুতি, নিজেকে ভাঙার ক্ষমতা। আর সেই পথেই তিনি অনেক দিন ধরে হাঁটছেন। প্রায় সাত বছর ধরে নেটপ্রভাবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমের জন্য মিনি সিরিজ় পরিচালনাও করেছেন। তাঁর দাবি, এই অভিজ্ঞতাই বড়পর্দায় কাজে লেগেছে।

‘মন মানে না’ ছবির জন্য অন্য একটি চরিত্রে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন প্রীতি। কিন্তু পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায় তাঁকে দ্বিতীয় নায়িকা শ্রেয়ার চরিত্রের জন্য বেছে নেন। “রাহুলদার আমার উপর ভরসা ছিল। চরিত্রের জন্য নিজেকে অনেক বদলাতে হয়েছে। কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ছিল ঠিকই, কিন্তু নিজেকে ভাঙতে কষ্ট হয়নি। কারণ, আমি তো প্রতিদিনই এই কাজটাই করি,” বললেন তিনি। বিপরীতে ঋত্বিক ভৌমিকের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতা থাকলেও ভয় পাননি প্রীতি।

কাজের পাশাপাশি জীবনেও এসেছে বড় শিক্ষা। অতিরিক্ত কাজপাগলামি একসময় তাঁর সম্পর্কগুলিতে দূরত্ব তৈরি করেছিল। অকপটে স্বীকার করলেন, “হঠাৎ একদিন বুঝলাম, বন্ধু, আত্মীয় এমনকি মা–বাবাও আমার আচরণে কষ্ট পাচ্ছেন। নিজেকে অনেক বদলেছি এখন। কাছের মানুষদের ডাকে আর দেরি করি না।”

ছবির নামের মতোই, কোন বিষয়ে প্রীতির মন মানে না? একটু থেমে হেসে উত্তর দিলেন, “প্রেমে প্রচুর ছেঁকা খেয়েছি। তবু প্রেম থেকে দূরে থাকতে পারি না।” এই ছবির মাধ্যমেই বড়পর্দায় পা রাখছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে হিয়া। প্রীতির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছে। “হিয়া খুব মিষ্টি,” বললেন তিনি। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের তিনি ভক্ত, যদিও এখনও সামনাসামনি দেখা হয়নি।

আগামী দিনে আরও ছবি ও সিরিজ়ে কাজের কথা চলছে। ব্যস্ততা বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সমাজমাধ্যমের প্রিয় ‘পাপা কি পরি’ কি হারিয়ে যাবে? প্রীতির সাফ জবাব, “একেবারেই না। যতই কাজ বাড়ুক, ‘পাপা কি পরি’ মাঝেমধ্যেই ফিরে আসবে।”

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *