প্রত্যাখ্যানের পরেও আশা ছাড়েননি: চেন্নাইয়ে সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসলেন সরফরাজ় খান

চেন্নাইয়ে সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসলেন সরফরাজ় খান! ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরের পর বছর রান করেও জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি সরফরাজ় খান। কখনও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, কখনও নির্বাচকদের অনীহা—সব…

December 18, 2025
0 min read

চেন্নাইয়ে সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসলেন সরফরাজ় খান!

ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরের পর বছর রান করেও জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি সরফরাজ় খান। কখনও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, কখনও নির্বাচকদের অনীহা—সব মিলিয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর দরজা যেন বন্ধই ছিল। টেস্ট দলে সুযোগ মিললেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁকে নিয়ে ভাবেননি নির্বাচকেরা। তবু হাল ছাড়েননি মুম্বইয়ের এই ব্যাটার। আর সেই ধৈর্যেরই ফল মিলল আইপিএলের নিলামে, যখন চেন্নাই সুপার কিংস তাঁকে দলে তুলে নিল ৭৫ লক্ষ টাকায়।

এই সুযোগকে সরফরাজ় দেখছেন তাঁর “নতুন ক্রিকেটজীবন” হিসেবে। ২৭ বছরের ব্যাটারের কাছে এটা শুধু আরেকটা চুক্তি নয়, বরং দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে পাওয়া এক নতুন শ্বাস নেওয়ার জায়গা। এত দিন ঘরোয়া সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত ভাল পারফর্ম করেও যে স্বীকৃতি তিনি পাননি, চেন্নাই সেই অভাবটা অনেকটাই পূরণ করেছে।

নিলামের দিনটা সরফরাজ়ের জন্য ছিল আবেগে ভরা। নিলামের ঠিক আগেই সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ২২ বলে ৭৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তবু নিলামের প্রথম দিকে তাঁর নাম উঠলে কোনও দলই আগ্রহ দেখায়নি। অনেকের চোখে হয়তো আবারও হতাশার ছায়া নামতে পারত। কিন্তু শেষ দিকে চেন্নাই সুপার কিংস যখন তাঁর নাম ডাকে, তখন যেন সব অপেক্ষার অবসান ঘটে।

চেন্নাই তাঁকে নেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি ছোট্ট কিন্তু আবেগঘন বার্তা দেন সরফরাজ়। লেখেন, “আমাকে নতুন জীবন দেওয়ার জন্য সিএসকেকে অনেক ধন্যবাদ।” সেই সঙ্গে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিয়োতে দেখা যায়, সিনেমার নায়কের মতো এক ফাঁকা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সুখবর শুনে আবেগে ভেঙে পড়ছেন তিনি। চোখের কোণে জল, মুখে হাসি—সব মিলিয়ে নিখাদ অনুভূতির প্রকাশ। পরে বাড়ি ফিরে বাবাকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য যেন তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তটা ধরে রাখে।

সরফরাজ়ের এই প্রতিক্রিয়া বুঝিয়ে দেয়, চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএল খেলার সুযোগ তাঁর কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ। গত মরসুমে কোনও দলই তাঁকে নেয়নি। ২০২৩ সালে শেষ বার দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পর আবার আইপিএলের মঞ্চে ফেরা সহজ ছিল না। কিন্তু চলতি মরসুমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে তাঁর ব্যাট নিজেই কথা বলেছে। ছ’টি ইনিংসে ২৫৬ রান, গড় ৬৪ এবং স্ট্রাইক রেট ১৮২.৮৫—এই পরিসংখ্যান উপেক্ষা করা কঠিন।

মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দলে সুযোগ পাওয়া মানেই আলাদা এক অনুপ্রেরণা। চেন্নাইয়ের পরিবেশ, ধোনির নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার আদর্শ মঞ্চ পেয়েছেন সরফরাজ়। জাতীয় দলের দরজা এখনও পুরোপুরি খুলে না থাকলেও, আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই পারে সেই রাস্তা আবার তৈরি করে দিতে।

এখন সরফরাজ় অতীতের হতাশা নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর একটাই লক্ষ্য—চেন্নাইয়ের জার্সিতে নিজের সেরাটা দেওয়া এবং প্রমাণ করা, লড়াই করলে সুযোগ এক দিন ঠিকই আসে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *