কুয়াশার দাপটে থেমে গেল ক্রিকেট: লখনউয়ে ম্যাচ বাতিল!
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা লখনউয়ে শেষ পর্যন্ত শুরুই করা গেল না ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। বুধবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর আম্পায়ারেরা ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে সিরিজ়ের ফয়সালা গড়াল পঞ্চম ম্যাচে। তবে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভারতের সিরিজ় হারার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
শীতের উত্তর ভারতে কুয়াশা নতুন কিছু নয়। তবু মাঝ ডিসেম্বরের রাতে লখনউয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিসিসিআইয়ের সূচি নির্বাচন নিয়েই এখন সমালোচনার ঝড়।
নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় টস হওয়ার কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর ৬টা ৫০, ৭টা ৩০, ৮টা, ৮টা ৩০, ৯টা এবং শেষ পর্যন্ত ৯টা ২৫— মোট ছ’বার মাঠ পরিদর্শন করেন আম্পায়ারেরা। কিন্তু দৃশ্যমানতা এতটাই খারাপ ছিল যে খেলা শুরুর কোনও সম্ভাবনাই তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি বুঝে অনেক আগেই সাজঘরে ফিরে যান দুই দলের ক্রিকেটারেরা।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাঠকর্মীরা পিচ ঢেকে দেন শতরঞ্চি দিয়ে। কুয়াশা আর শিশিরে ভিজে যাচ্ছিল ২২ গজ। পিচ রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনই চোট-আঘাতের ঝুঁকি এড়ানোও ছিল বড় চিন্তা। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ— এই অবস্থায় কুয়াশার মধ্যে ম্যাচ খেলে ঝুঁকি নিতে রাজি ছিল না কোনও দলই।
ম্যাচ বাতিল হওয়ায় সিরিজ়ের ফল নির্ধারিত হবে আগামী শুক্রবার আহমদাবাদে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে। ভারত জিতলে সিরিজ় তাদেরই, হারলেও সিরিজ় ড্র হবে। তবে লখনউয়ের এই অভিজ্ঞতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিরক্তি ছড়িয়েছে।
সমালোচনার মুখে বিসিসিআই। ডিসেম্বর মানেই উত্তর ভারতের কুয়াশা— সঙ্গে যোগ হয়েছে দূষণজনিত ধোঁয়াশা। সূর্য ডোবার পর দৃশ্যমানতা দ্রুত কমে যায়, ব্যাহত হয় বিমান ও ট্রেন চলাচলও। এসব তথ্য বোর্ডের অজানা নয়। তবু কেন এই সময়ে লখনউয়ে রাতের ম্যাচ রাখা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিতর্ক আরও বেড়েছে একটি দৃশ্য ঘিরে। খেলা শুরুর আগে ওয়ার্ম আপের সময় হার্দিক পাণ্ড্যকে মুখে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যায়। অনেকের মতে, কুয়াশার পাশাপাশি ধোঁয়াশাও ছিল মাঠে, যা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন পেসার ডেল স্টেনও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “মঙ্গলবার রাত আটটার সময় হোটেল থেকে হাঁটতে বেরিয়ে দেখেছি, ২০ মিটার দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। তখনই মনে হয়েছিল ম্যাচ হওয়া কঠিন।”
সূচি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম নয়। চলতি বছরই দিল্লিতে ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ় টেস্ট দূষণের কারণে কলকাতায় সরাতে হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেটারদের অভিযোগের মুখে পড়েছিল বোর্ড। এই সিরিজ়েই ধর্মশালায় ম্যাচ আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে— রাত বাড়তেই সেখানে তাপমাত্রা নেমে যায় ৪–৫ ডিগ্রিতে, সঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া।
সব মিলিয়ে, লখনউয়ের ম্যাচ বাতিল শুধু একটি খেলা ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা নয়। এটি আবারও তুলে ধরল সূচি তৈরিতে বাস্তব পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার গুরুত্ব— যা উপেক্ষা করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্রিকেটই।