ক্যামেরার বাইরে তান্যা!
‘বিগ বস্ ১৯’-এর ঘর থেকে বেরিয়ে চতুর্থ স্থানাধিকারী হিসেবে যখন তান্যা মিত্তল ফিরলেন, তখন তিনি আর শুধু একজন প্রতিযোগী নন—তিনি এক পরিচিত মুখ, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এত দিন যাঁকে নিয়ে নানা দাবি, কৌতুক আর কৌতূহল ঘুরে বেড়িয়েছে, অবশেষে তাঁর ব্যক্তিগত জগতের দরজাটা খুলে গেল সবার সামনে। প্রথম বার প্রকাশ্যে এল তান্যার বাড়ি এবং তাঁর পরিবার।
রিয়্যালিটি শো চলাকালীন তান্যা নিজের বাবার ব্যবসা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বাবার বিশাল রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসা রয়েছে এবং বছরে ৫০০ থেকে ১,০০০ ফ্ল্যাট বিক্রি হয়। যদিও বাবার সংস্থার নাম তিনি কখনও প্রকাশ্যে বলেননি। সেই থেকেই নেটদুনিয়ায় কৌতূহল—তান্যার বাবা আসলে কে, কী করেন তিনি? ‘বিগ বস্’-এ তান্যার ভাইকে দেখা গেলেও, বাবা-মা ছিলেন আড়ালেই। এত দিন পরে সেই রহস্যের খানিকটা পর্দা উঠল।
মুম্বই থেকে গ্বালিয়রে ফিরে নিজের বাড়ির সামনে পৌঁছনোর মুহূর্তের ভিডিয়ো তান্যা নিজেই ভাগ করে নেন সমাজমাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, বাড়ির সামনে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে অসংখ্য চারচাকার গাড়ি। কাতারে কাতারে মানুষ অপেক্ষা করছেন তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। কিন্তু এই ভিড় আর উত্তেজনার মধ্যেই সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য—বাবা-মাকে দেখে ভেঙে পড়ছেন তান্যা।
বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “বাবা, আমি তোমার নাম নিতে পারিনি। সবাই আমাকে নিয়ে মশকরা করত।” সেই মুহূর্তে তাঁর বাবা-মা তাঁকে সান্ত্বনা দেন, শক্ত করে আগলে রাখেন। ক্যামেরার ঝলকানির বাইরে এই আবেগী দৃশ্য যেন অন্য এক তান্যাকে সামনে নিয়ে আসে—যিনি আত্মবিশ্বাসী হলেও ভিতরে ভিতরে সংবেদনশীল।
এই পারিবারিক পুনর্মিলনের দৃশ্য দেখার জন্য অনেকে আবার ভিডিয়ো কলে অপেক্ষা করেছিলেন। সেই ভিডিয়োও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস যেমন ছিল, তেমনই ছিল কৌতূহল—এই সেই পরিবার, যাদের কথা এত দিন শুধু শোনা গিয়েছে।
তান্যাকে নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ‘বিগ বস্’-এর ঘরে তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর ২৬ হাজার বর্গফুটের বাড়ি রয়েছে, সেখানে ৮০০ জন কাজ করেন এবং ১৫০ জন দেহরক্ষী তাঁর নিরাপত্তায় থাকেন। তিনি নাকি বিশেষ মিষ্টি খেতে দুবাই যান, আর ডাল খেতে গ্বালিয়র থেকে দিল্লি পাড়ি দেন। এই সব মন্তব্যের জন্যই তাঁকে নিয়ে বারবার ঠাট্টা হয়েছে। এমনকি, সলমন খানও শো-তে মজার ছলে তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন।
কিন্তু গ্বালিয়রের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তান্যাকে দেখে বোঝা গেল—আলোচনার আড়ালে থাকা মানুষটা ঠিক ততটাই আবেগী, যতটা আত্মবিশ্বাসী। ক্যামেরার সামনে দাবি আর সাহসী কথার বাইরে, পরিবারকে আঁকড়ে ধরা এই মুহূর্তই হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে সত্যি ছবি।