গভীর রাতে উত্তাল সাগরে সংঘাত: ভারতীয় জলসীমায় ট্রলার ডোবার ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ মৎস্যজীবী

গভীর রাতে উত্তাল সাগরে সংঘাত! বঙ্গোপসাগরের গভীর রাতে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী রইল কাকদ্বীপ উপকূল। অভিযোগ, ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে বাংলাদেশের নৌসেনার একটি জাহাজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীদের একটি ট্রলারে ধাক্কা…

December 16, 2025
1 min read

গভীর রাতে উত্তাল সাগরে সংঘাত!

বঙ্গোপসাগরের গভীর রাতে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী রইল কাকদ্বীপ উপকূল। অভিযোগ, ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে বাংলাদেশের নৌসেনার একটি জাহাজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৎস্যজীবীদের একটি ট্রলারে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কায় ‘এফবি পারমিতা দশ’ নামে ট্রলারটি ডুবে যায়। ঘটনায় এখনও নিখোঁজ পাঁচ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। বেঁচে ফেরা ১১ জনকে উদ্ধার করা হলেও, তাঁদের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা স্পষ্ট।

সূত্রের খবর, ওই ট্রলারে মোট ১৬ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। ১৩ ডিসেম্বর নামখানা থেকে মাছ ধরতে রওনা দিয়েছিল ট্রলারটি। রবিবার গভীর রাতে, আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় মাছ ধরার সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের একাংশের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে আলো নিভিয়ে একটি বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজ আচমকাই ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ে এবং তাঁদের ট্রলারে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলারটি জলে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর সমুদ্রে ভেসে পড়েন মৎস্যজীবীরা। কাছাকাছি এলাকায় থাকা কাকদ্বীপের অন্য একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে ১১ জনকে উদ্ধার করে। কিন্তু পাঁচ জন এখনও নিখোঁজ। গভীর সমুদ্রে তাঁদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন—এক মুহূর্তে সব ঠিক হয়ে যাবে, এই আশাতেই তাঁরা প্রহর গুনছেন।

এই ঘটনার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে, কী ভাবে একটি বিদেশি নৌসেনার জাহাজ ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশি জাহাজটি ইচ্ছাকৃত ভাবেই আলো নিভিয়ে চলাচল করছিল। এই অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

অন্য দিকে, বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, ট্রলারটি নাকি আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে—যদি ট্রলারটি সত্যিই বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে থাকে, তবে দুর্ঘটনার পর কেন মৎস্যজীবীদের উদ্ধার বা আটক না করেই বাংলাদেশ নৌসেনার জাহাজ দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে গেল? এই আচরণ নিয়েই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ। কোন জলসীমায় ঠিক কী ঘটেছিল, জাহাজটির গতিপথ কী ছিল, সংঘর্ষটি দুর্ঘটনা না ইচ্ছাকৃত—এই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচ মৎস্যজীবীর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

বছরের পর বছর ধরে এই উপকূল এলাকার মৎস্যজীবীরা জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে পাড়ি দেন। আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি মাছ ধরতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁরা নানা দেশের নৌবাহিনীর মুখোমুখি হন। কিন্তু এ ভাবে গভীর রাতে ট্রলার ডুবে যাওয়া এবং মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ফের একবার তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।

এখন নজর একটাই—নিখোঁজ পাঁচ জনের খোঁজ মিলবে কি না, আর তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে। সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে উপকূলের মানুষজন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *