ধর্ষণ মামলার নাম আসতেই দেশ ছাড়া!
ধর্ষণের মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন পঞ্জাবের আম আদমি পার্টির (AAP) বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা। টানা দু’মাস কার্যত আত্মগোপনে থাকার পরে এবার প্রকাশ্যে এলেন— তবে পঞ্জাব নয়, অস্ট্রেলিয়া থেকে! একটি ভিডিওবার্তায় তিনি জানালেন, জামিন পেলেই দেশে ফিরবেন।
🕵️♂️ লুকআউট নোটিস, তবু অধরা
২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের মামলায় নাম ওঠার পর থেকেই গা ঢাকা দেন হরমিত। পুলিশ লাগাতার তল্লাশি চালালেও হদিস মেলেনি।
- পটিয়ালা পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছে
- পরিবারের সদস্যরাও জানাতে পারেননি তাঁর অবস্থান
- বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশির পরেও খালি হাতে ফিরতে হয় পুলিশকে
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার একটি পঞ্জাবি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজেই জানান— “আমি অস্ট্রেলিয়ায় আছি, তবে জামিন পেলেই পঞ্জাবে ফিরব।”
🗣 “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে, এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র”
মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন,
“আমি পঞ্জাবের মানুষের কথা বলি বলে আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এই মামলা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
সাক্ষাৎকারে আরও বলেন—
- পঞ্জাব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বিধায়কদের কোনও মতামত নেওয়া হয় না
- ‘দিল্লি থেকে আসা নেতারা’ এখন পঞ্জাব নিয়ন্ত্রণ করছে
- বাক্স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে
- তবে বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে
⚠️ পটিয়ালায় উত্তেজনা, গুলি-পাথর ছোড়ার অভিযোগ
তদন্তের ভিত্তিতে একসময় হরমিতের খোঁজে পুলিশ পৌঁছেছিল হরিয়ানার কারনালের ডাবরি গ্রামে, যেখানে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে। কিন্তু পুলিশ পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়ায়।
অভিযোগ উঠেছে—
- হরমিতের সমর্থকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর ছোড়ে
- এলাকায় চরম অশান্তি তৈরি হয়
তবে বিধায়কের সাফাই—
“এই ঘটনার সঙ্গে আমি যুক্ত নই। আমাকে ভুয়ো এনকাউন্টারে মারার চক্রান্ত হচ্ছিল, তাই দেশ ছেড়ে পালাই।”
🧾 কী অভিযোগ, কেন মামলা?
জিরাকপুরের এক মহিলা অভিযোগ করেন—
- মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন হরমিত
- এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন
- অভিযোগের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর থানায় ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়
- তারপর থেকেই হরমিত নিখোঁজ
এদিকে, মামলায় বারবার আদালতে হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় পটিয়ালা আদালত তাঁকে ‘অপরাধী’ (proclaimed offender) ঘোষণার ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।
❓ এবার কী হবে?
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- জামিন পেলেই অবশ্য তিনি ফিরতে পারেন, কিন্তু লুকআউট নোটিস থাকায় দেশে ফিরলে সরাসরি আটক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
- বিদেশে বসে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” দাবি করলেও, আইন অনুযায়ী তাঁকে তদন্ত ও আদালতের মুখোমুখি হতেই হবে
📌 শেষ কথা
রাজনৈতিক চাপ, ব্যক্তিগত অভিযোগ, তদন্ত, পলাতক জীবন— সব মিলিয়ে পঞ্জাবের রাজনীতিতে এখন টান টান উত্তেজনা।