জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন কট্টরপন্থী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী! জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে—সানায়ে তাকাইচি হতে চলেছেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। শাসক দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁকেই নতুন নেত্রী নির্বাচিত করেছে।…

October 5, 2025
1 min read

জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী!

জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে—সানায়ে তাকাইচি হতে চলেছেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। শাসক দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁকেই নতুন নেত্রী নির্বাচিত করেছে। ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত সানায়ে এশিয়ার এই দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। তবে ৬৪ বছরের এই নেত্রীর নির্বাচন জাপানের মহিলাদের মধ্যে mixed প্রতিক্রিয়া তুলেছে।

সানায়ে রাজনৈতিক পরিসরে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত। মহিলাদের অধিকার, সমকামী বিবাহ এবং পরিবার-সংক্রান্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপে অতীতে তিনি বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, মহিলাদের প্রথমে ভালো স্ত্রী ও মা হওয়াই উচিত। তিনি মহিলাদের স্বামী-স্ত্রীর আলাদা পদবি ব্যবহার করার বিরোধিতাও করেছেন, বলছেন এটি জাপানের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। সমকামীদের বিবাহ আইনেও তিনি সমর্থন জানাতে প্রস্তুত নন।

গত মাসে জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করেন। এলডিপিতে ইশিবাকে ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর দলের মধ্যেও তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। এরপরই এলডিপি সানায়েকে নেত্রী নির্বাচিত করে।

এখন সানায়ের সামনে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে—দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানো এবং জাপানের মন্থর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে তার চেয়েও বড় পরীক্ষা হচ্ছে মহিলাদের সমর্থন অর্জন। কট্টরপন্থী এবং পুরুষতান্ত্রিক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দেশটির মহিলাদের বড় অংশ হয়তো খুশি হবেন না।

যদিও রাজনৈতিকভাবে কঠোর, ব্যক্তিগত জীবনে সানায়ে অন্যরকম। অতীতে তিনি মেটাল ড্রামার ছিলেন এবং যৌবনে বাইকে চেপে দেশ ভ্রমণ করতেন। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে নিজের মেনোপজ়ের সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন এবং মহিলাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পক্ষে কথা বলেছেন।

নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সানায়ে কড়া অভিবাসন নীতি এবং সামরিক বাহিনী শক্তিশালী করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জাপানের উন্নয়নের জন্য তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো আবের রক্ষণশীল নীতি অনুসরণ করবেন। এলডিপির পুরুষ শীর্ষনেতাদের প্রতি তাঁর আনুগত্যও নজরকাড়া।

সংক্ষেপে, সানায়ে তাকাইচি একদিকে জাপানের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন, অন্যদিকে কট্টরপন্থী নীতির কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া জাপানের মহিলা অধিকার, পরিবারনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।

কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *